ঢাকা মহানগর আদালতে ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়ের করা মামলাগুলোতে জামিন চাইতে গিয়ে বিচারকের আদেশে কারাগারে যেতে হয়েছে চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক আলহাজ্ব খলিলুর রহমানকে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) তাকে কারাগারে পাঠানো হলেও সোমবার সন্ধ্যার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। পরবর্তীতে কয়েক ঘন্টার অনুসন্ধান শেষে বিশ্বস্থ সূত্রে নিশ্চিত হয়ে রাত ৯টার দিকে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিক চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিনের অনলাইন পোর্টাল।
এরপর থেকে সংবাদটি রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। তবে আজ মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার জামিনে মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়লে পাঠকরা বিভ্রান্তির মুখে পড়েন।
Old history of chittagong’s post নামক একটি ফেসবুক পেইজে সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে পোস্ট করা হয়েছে, ৪৫৯ কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি মামলায় জামিনে মুক্ত পেলেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খলিলুর রহমান।
বার্ধক্যজনিত কারনে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এভাবে আরও অনেকের ফেসবুক টাইমলাইনে পোস্ট করা হয় জামিনে মুক্ত। বিষয়টি নিশ্চিত হতে দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের অনেক পাঠক অফিসে ফোন করেন।
তবে নির্ভরযোগ্য কোন সূত্র জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি। বরং ঢাকা মহানগর আদালতের একটি সূত্র জানিয়েছেন তার জামিন হয়নি।
বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারনে তিনি কারা হেফাজতেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার জামিনের পরবর্তী শুনানি আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি।
আদালত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রও জানিয়েছে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) খলিলুর রহমানের আইনজীবীরা তার পক্ষে পুনরায় জামিন আবেদন করেন। তবে বিচারক সেই আবেদনও নাকচ করে দেন।
এর আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুরাইয়া আক্তার জানিয়েছেন রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) খলিলুর রহমানকে কারাগারে আনা হয়।
উল্লেখ্য : ন্যাশনাল ব্যাংকের সাতটি মামলায় ৮৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত এই শিল্পপতি রবিবার জামিনের আশায় আত্মসমর্পণ করতে ঢাকা মহানগর আদালতে যান।
শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদেশের পর বিকেলে তাকে হাতকড়া ও হেলমেট পরিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।
পরে তার শারীরিক অসুস্থতার কথা কারা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে পুলিশ প্রহরায় তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চট্টগ্রামের আরেক শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সাদ মুসা গ্রুপকে ন্যাশনাল ব্যাংকের দেওয়া ৪৫৯ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
গত ৩০ ডিসেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক রাম প্রসাদ মন্ডল বাদী হয়ে কমিশনের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলায় সিকদার গ্রুপের চার পরিচালক- রন হক সিকদার (ব্যবস্থাপনা পরিচালক), তার ভাই রিক হক সিকদার, মা মিসেস মনোয়ারা সিকদার ও বোন সাবেক সংসদ সদস্য পারভীন হক সিকদারকে আসামি করা হয়।
এছাড়া সাবেক পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীমের নামও আছে আসামির তালিকায়।


