back to top

লিফটের ফাঁকা গর্তে পড়ে নির্মম পরিণতি কলেজছাত্রের,মৃত্যু ঘিরে রহস্য

৭ জনের নামে থানায় মামলা, নিরাপত্তাকর্মী গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৫৪

সিটিজি নিউজ টুডে : চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানাধীন মৌসুমি আবাসিক এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদকে (১৭) লিফটের ফাঁকা গর্তে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার মঙ্গলবার চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভবনের নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে আশফাককে তার বন্ধু ফারদিন হাসান মুঠোফোনে কল দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকায় ডেকে নেয়।

সেখানে পৌঁছালে আইমন, অনিক, রানা, মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ একদল তরুণ তাকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে আশফাক পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে গেট বন্ধ করে আটতলায় উঠে যান।

তবে হামলাকারীরা গেটে ধাক্কা দিতে থাকলে নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এরপর হামলাকারীরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে আশফাককে আটতলায় মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে লিফটের ফাঁকা শ্যাফটে ফেলে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আশফাক কবির সাজিদ বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। তিনি নগরীর ডিসি রোড কবরস্থানের পাশের একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন।

নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বলেন, তার ছেলে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বের জেরে ঘটেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নির্মাণাধীন ভবনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্তে অভিযান চলছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি