back to top

রোহিঙ্গার জন্মনিবন্ধন, জাতীয়তা সনদ: চেয়ারম্যান শোকজ

প্রকাশিত: ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:২০

সিটিজি নিউজ টুডে: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নে রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মনিবন্ধন ও জাতীয়তা সনদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে শোকজ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এনিয়ে পুরো এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে গেল ২৯শে জানুয়ারি এলাকাবাসীর পক্ষে মো. বেলাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শফিউল আজম মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মনিবন্ধন ও জাতীয়তা সনদ দিয়ে আসছেন। সূত্র-মানবজমিন

অভিযোগ অনুযায়ী, ‘মোহাম্মদ বয়ান’ নামের এক ব্যক্তিকে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা দেখিয়ে জন্মনিবন্ধন ও জাতীয়তা সনদ প্রদান করা হয়। সনদে তার পিতার নাম মো. আব্দুল কাদের এবং ঠিকানা হিসেবে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের তালতল্যা টিলা এলাকার উল্লেখ রয়েছে। অথচ ওই ওয়ার্ডে উক্ত নামে কোনো ব্যক্তি বসবাস করেন না বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একই নামের যে ব্যক্তি এলাকায় বসবাস করেন তার সন্তানদের বয়স মাত্র ৩৪ বছর। তার নাম ব্যবহার করেই রোহিঙ্গা নাগরিক মোহাম্মদ বয়ানকে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে দেখিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সনদ প্রদান করা হয়েছে। এসব সনদ ব্যবহার করে ওই ব্যক্তি পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মো. বেলাল উদ্দিন জানান, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর লঙ্ঘন করে ফরহাদাবাদ ইউপি’র ১নং ওয়ার্ড মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান শফিউল আজম অসৎ উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মনিবন্ধন ও জাতীয়তা সনদ দিয়েছে।

আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে অভিযোগ করেছি। এই ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান অনেক রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মনিবন্ধন ও জাতীয়তা সনদপত্র দিয়েছে। অনেকে পাসপোর্ট বানিয়ে বিদেশে চলে গেছে। শেষমেশ এটা আমরা ধরে ফেলেছি। এটা রোহিঙ্গা প্রদেশ হয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকার নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ হুমকির মুখে পড়ছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিচার ও চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করছি।

অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শফিউল আজম বলেন, ইউএনও স্যার আমাকে শোকজ করেনি। ব্যাখ্যা চেয়েছেন। আমি এরকম কাউকে সনদপত্র দেয়নি। পূর্বের চেয়ারম্যান আমার সিল ব্যবহার করে সনদ দিয়েছেন। আমি স্বাক্ষর করিনি। কিন্তু মো. বয়ান নামে ওই ব্যক্তিকে জাতীয়তা সনদ দিয়েছি। কারণ সে এটার প্রাপ্য। সে অনেক আগেই ভোটার হয়েছে। আমি এটার ব্যাখ্যা দিয়েছি।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অরুণ উদয় বড়ুয়া জানান, ফরহাদাবাদ ইউনিয়নে রোহিঙ্গা নাগরিকদের বিষয়ে ইউএনও স্যার জানতে চেয়েছেন। বয়ান নামের ব্যক্তিটা এখনো এনআইডি করে নাই। তবে তার এনআইডি করতে না পারার জন্য কিছু বলেননি। যদি কেউ জন্মনিবন্ধন, জাতীয়তা সনদ ও পাসপোর্ট নিয়ে আসেন তাহলে তো আমাদের এনআইডি করতে হবে।

এ বিষয়ে আমি ইউএনও স্যারকে জানিয়ে দিয়েছি। এ নিয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন বলেন, রোহিঙ্গা নাগরিককে সনদ দেয়ার বিষয়ে চেয়ারম্যানকে শোকজ করছি।

অভিযুক্ত ব্যক্তি এনআইডি করেছে কিনা জানতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছি। সর্বাঙ্গিক বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি