সিটিজি নিউজ টুডে: চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় পুলিশের পাহারায় থেকেও এক ব্যবসায়ীর বাসায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলির ঘটনার পর নড়ে চড়ে বসেছে প্রশাসন।
অপরাধীদের ধরতে রবিবার মধ্যরাতে নগরজুড়ে একযোগে অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ‘সিমালটেনিয়াসলি ড্রাইভ’ সংক্ষেপে ‘এস ড্রাইভ’ নামের এই বিশেষ অভিযানের ঘোষণা দেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।
এরপর রবিবার দিবাগত রাত ১২টার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ দল ১০টি ভাগে ভাগ হয়ে একযোগে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান চালায়।
অপরাধীদের আস্তানা, অস্ত্র ও মাদকের সম্ভাব্য স্পটে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযানে কয়েকজনকে আটক করা হয়।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী জানান, অপরাধীদের ইতিমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের সম্ভাব্য আস্তানায় অভিযান চলছে। ১০টি দলে ভাগ হয়ে নগরীর ১০টি এলাকায় এ অভিযান চালায় সিএমপি।
অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অপারেশন ‘এস ড্রাইভ’ চলবে বলেও জানিয়েছে সিএমপি।
তবে অভিযানের আগাম ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, অভিযান শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দিলে মূল অপরাধীরা সরে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
একযোগে অভিযানের উদ্দেশ্য যেখানে অপরাধীদের পালানোর পথ রুদ্ধ করা, সেখানে আগাম ঘোষণা কতটা কার্যকর—তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে এস ড্রাইভের বিধান প্রসঙ্গে পুলিশ জানায়, প্রবিধানের ৩৭৮(ঘ) ধারায় ‘সিমুলটানিয়াসলি ড্রাইভ’ অর্থ যুগপৎ অভিযান। রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ পলাতকদের বিষয়ে পর্যায়ভিত্তিক অনুসন্ধান, অনুসন্ধানের তারিখ ও উপস্থিত দুইজন সাক্ষীর নাম নথিভুক্ত করার বিধান রয়েছে।
যেসব স্থানে অপরাধীরা অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হয়, সেখানে অনিয়মিত বিরতিতে অভিযান পরিচালনাই এস ড্রাইভ।
এই অভিযানের পটভূমিতে রয়েছে শনিবার সকালে স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা। এ ঘটনার পর থেকেই অপরাধীদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়।
ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, একটি ঘটনায় নগরবাসীর মনে কিছুটা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সেই আশঙ্কা দূর করতেই এই অভিযান।
তিনি জানান, অপরাধীদের ইতিমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের সম্ভাব্য আস্তানায় অভিযান চলছে। পুলিশের কাছে তথ্য আছে, তারা চট্টগ্রাম শহরের বাইরে পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করছে। সেখানেও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। নগরের প্রতিটি প্রবেশমুখে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
পুলিশের ধারণা, অস্ত্র বাইরে থেকে আনা হয়নি, শহরের কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এমন একাধিক স্পট শনাক্ত করে একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
আসামিদের পরিচয় ও ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে এখনই নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।
অস্ত্র থানার লুট হওয়া নাকি পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা, সে বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত নয়।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, অস্ত্রগুলো পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে কেনা হতে পারে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



