সিটিজি নিউজ টুডে : চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় এলাকায় মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ১০টা ও ১১টার দিকে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ফকিরখীল গ্রামের কুমারপাড়া এবং ৬নং ওয়ার্ডের ধলির গোপাট এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়।
আহতরা হলেন-বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন (৫২), যুবদল নেতা মোহাম্মদ টিপু (৩৫), মোহাম্মদ সাকিব (২৮), মোহাম্মদ আলম (৪০), রবিউল ইসলাম (৩০), রিফাত ও কফিল। একজনের নাম পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জোরপূর্বক এক ব্যক্তির কাছ থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি নিয়ে বিচার-শালিস করতে গেলে একপক্ষে মিষ্টি জসিম ও মিষ্টি টিপু এবং অপরপক্ষে সাকিব ও রবিউলের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় পক্ষই স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এবং বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ঘটনাস্থলে লাঠিসোঁটা নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন। আহতদের কেরানিহাট আল-হায়াত হাসপাতালে নেওয়া হলে গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক ভিডিওবার্তায় জসিম উদ্দিন এ ঘটনাটি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি কামরুল হাসান তালুকদারের ইন্ধনে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। অপরদিকে সাকিব এ ঘটনার মূলহোতা হিসেবে জসিমের নাম উল্লেখ করেছেন।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন,সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনায় অন্তত ৮ জন গুরুতর আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


