back to top

চট্টগ্রামে আতঙ্কের নাম ‘গলাকাটা বাচা’ গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:০৯

সিটিজি নিউজ টুডে : চট্টগ্রাম নগরীর অপরাধ জগতের একটি আলোচিত নাম সাদ্দাম হোসেন ওরফে ‘গলাকাটা বাচা’। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭। যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলার দক্ষিণ সলিমপুর এলাকায় একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়েকদিন ধরে নজরদারির পর তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়।

র‍্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাদ্দাম হোসেন (৩৭) কেবল একজন পলাতক আসামিই নন, বরং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দিতেন।

তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও ভূমি দখলসহ গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

অপরাধ তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (সিডিএমএস) অনুযায়ী, পাঁচলাইশ, চকবাজার, ডাবলমুরিং, বায়েজিদ বোস্তামী, আকবর শাহ ও সীতাকুণ্ড থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, এসব মামলার বাইরেও তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ভয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করতে সাহস পাননি।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ‘গলাকাটা বাচা’ নামে পরিচিত এই সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন।

তাঁদের এই চক্রটি মূলত চাঁদাবাজি, ভূমি দখল এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে। বিশেষ করে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা তাঁদের কার্যক্রমের অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সাদ্দাম হোসেন প্রায়ই প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করতেন এবং তাঁর অনুসারীদের নিয়ে এলাকায় দাপট দেখাতেন।

এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। অনেক ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, তাঁর গ্রেপ্তারের মাধ্যমে শুধু একটি ব্যক্তিকে আটক করা হয়নি, বরং একটি সক্রিয় অপরাধ চক্রের কার্যক্রমেও বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে।

তবে এই নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

গ্রেপ্তারের পর সাদ্দাম হোসেনকে পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অপরাধ চক্রের অন্যান্য সদস্য, অস্ত্রের উৎস এবং অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই গ্রেপ্তারের ধারাবাহিকতায় পুরো সন্ত্রাসী চক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং দীর্ঘদিনের ভীতি থেকে মুক্তি পাবে জঙ্গল সলিমপুরসহ আশপাশের এলাকা।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি