back to top

সম্পদ গোপন-অবৈধ আয়: রুপমের ৭ বছর জেল

জরিমানা সোয়া ২ কোটি টাকা

প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:০৫

সিটিজি নিউজ টুডে : মাদক কারবারের টাকায় অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা এবং সেই সম্পদের তথ্য গোপন। দুই অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন রুপম চৌধুরী (৪১)।

আদালত তাকে ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে গুনতে হবে ২ কোটি ২৬ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬০ টাকা জরিমানা।

সোমবার সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

তবে রায়ের সময় আদালতে হাজির ছিলেন না রুপম। ফলে সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

রুপম চৌধুরী, যিনি রূপন চৌধুরী ওরফে রিপন চৌধুরী নামেও পরিচিত, বোয়ালখালীর সারোয়াতলী এলাকার দয়াল চৌধুরীর ছেলে।

বর্তমানে তিনি নগরের হালিশহর মধ্যম নাথপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মাদক ব্যবসার মাধ্যমে সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসেন জানান, রুপম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।

মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পদের বড় অংশই তিনি সম্পদ বিবরণীতে গোপন করেছিলেন।

মামলার নথি বলছে, দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে রুপম ৩৮ লাখ ২৩ হাজার ৪৩৯ টাকার স্থাবর এবং ২৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯১ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেন।

মোট গোপন সম্পদের পরিমাণ ৬৫ লাখ ৬ হাজার ৮৩০ টাকা। এর বাইরে তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ১ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার ৮৩০ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

এর আগে, একই আদালত গত ১৩ এপ্রিল মাদক কারবারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের আরেকটি মামলায় রুপম চৌধুরী ও তার স্ত্রী সন্ধ্যা রানী চৌধুরীকে ৪ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, একের পর এক মামলায় একই ধরনের অপরাধে দণ্ডিত হচ্ছেন এই ব্যক্তি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, রুপম চৌধুরীর বিরুদ্ধে এখনো দুটি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুলগাঁও এলাকায় জমি ও একটি ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন সম্পদের তথ্য গোপনের বিষয়ও তদন্তে উঠে এসেছে।

মামলার সূত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালে একটি দৈনিকে ‘ইয়াবা রূপম’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নজরে আনে দুদক।

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে রুপম ও তার স্ত্রী সন্ধ্যা চৌধুরীর বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়।

২০২১ সালে তাদের পৃথকভাবে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হলে রুপম তা জমা দেন। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ে বেরিয়ে আসে তথ্য গোপনের চাঞ্চল্যকর চিত্র।

আইনজীবীরা বলছেন, মাদক ব্যবসার অর্থে সম্পদ গড়ে তুলে তা গোপন করার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—অবৈধ সম্পদ লুকিয়ে রাখা যাবে না, শেষ পর্যন্ত আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি