back to top

যুদ্ধের মাঝেও তেলের সরবরাহে ছন্দ,জ্বালানি বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত

সরবরাহ ঠিক রাখতে সক্রিয় বিপিসি

প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:৪০

অর্থনীতি ডেস্ক : দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় পদক্ষেপ হিসেবে মালয়েশিয়া থেকে অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের বিশাল চালান নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে।

মোট ৫১ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল নিয়ে জাহাজ দুটি আগামী ৮ এপ্রিল বুধবার বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে।

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও এই আমদানি কার্যক্রম দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আইসল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ জাহাজে প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত অকটেন রয়েছে। একই দিনে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ বন্দরে পৌঁছাবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সহকারী ব্যবস্থাপক (গণসংযোগ) ফারজিন হাসান মৌমিতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরবরাহ চেইনে গতি:
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

তবে এর মধ্যেও দেশের জ্বালানি আমদানি কার্যক্রম থেমে নেই। বিপিসি নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাাংর সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে ।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৩৮টি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে ভিড়েছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই এসেছে আরও ৬টি জাহাজ।

অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব :
পরিবহন খাত, শিল্প উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই জ্বালানি একটি প্রধান চালিকাশক্তি। বিশেষ করে ফার্নেস অয়েল বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হওয়ায় বিদ্যুৎ খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে অকটেন সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে পরিবহন খাতে চাপ কমবে, যা সরাসরি বাজারে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

এক্ষেত্রে নতুন এই চালান-বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্থিতিশীলতা আনবে, পরিবহন খাতে চাপ কমাবে, বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে এবং শিল্প উৎপাদন ও বাণিজ্য কার্যক্রমে গতি ফিরবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাজারে স্থিতিশীলতা:
সরকারের আগাম পরিকল্পনা ও নিয়মিত আমদানির ফলে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর জ্বালানি সংকট না থাকলে পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

জনস্বস্তির আশা:
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও এই আমদানি কার্যক্রম দেশের বাজারে এক ধরনের আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে, যা বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে আসবে এবং অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে।

বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও সরবরাহ নিশ্চিত করার এই প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি