back to top

মন্দা পেরিয়ে ফুলের বাজারে প্রাণ, ব্যবসায়ীদের মুখে স্বস্তির হাসি

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:২৯

চট্টগ্রাম নগরীর প্রাণকেন্দ্র মোমিন রোড এখন যেন এক রঙিন ফুলের রাজ্য। পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে এখানে ভিড় জমাচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ, তবে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে তরুণীদের উচ্ছ্বাস।

খোপায় গাঁথা রঙিন ফুল, কানে-গলায় ফুলের অলংকার—সব মিলিয়ে উৎসবের সাজে যেন নেমে এসেছে এক টুকরো বসন্ত।ব্যবসায়ী

মোমিন রোড ও চেরাগী পাহাড় মোড় ঘিরে থাকা ফুলের দোকানগুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়। বাতাসে ভাসছে টাটকা ফুলের মিষ্টি সুবাস, আর সেই সুবাসে আকৃষ্ট হয়ে ক্রেতাদের আনাগোনা থামছেই না।ব্যবসায়ী

কেউ কিনছেন খোপার জন্য গাঁদা বা গোলাপ, কেউ নিচ্ছেন বুকেট, আবার কেউবা ঘর সাজানোর জন্য বেছে নিচ্ছেন নানা রঙের ফুল।ব্যবসায়ী

বৈশাখকে ঘিরে এই ব্যস্ততা ফুল ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে। গত কয়েক বছর করোনার প্রভাব, উৎসবের সময়সূচির অমিল এবং কর্পোরেট অর্ডারের অভাবে ব্যবসায় মন্দা ছিল স্পষ্ট।

অনেকেই লোকসান গুনেছেন, কেউ কেউ পেশা বদলাতেও বাধ্য হয়েছেন। তবে এবার পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।

মোমিন রোডস্থ ফুল ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘ফুল ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ’ এর সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম বলেন, নতুন বছরের শুরুতেই কর্পোরেট অর্ডার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। পোশাক কারখানা, ব্যাংক, বীমা, রেস্টুরেন্টসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বড় বড় অর্ডার আসছে।

ফলে বাজারে ফিরেছে চাঙাভাব। ফুল ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের হিসাবে, এবারের বৈশাখকে ঘিরে তাদের লক্ষ্যমাত্রা আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা—যা দীর্ঘ মন্দার পর বড় এক প্রত্যাশা।

তবে বাজারে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে আরেকভাবে। কাঁচা ফুলের পাশাপাশি আমদানি করা প্লাস্টিকের ‘চায়না ফুল’-এর চাহিদা বেড়েছে দ্রুত।ব্যবসায়ী

দীর্ঘদিন টেকে, দেখতে আকর্ষণীয় এবং তুলনামূলক কম দামের হওয়ায় এসব ফুল এখন কর্পোরেট অফিস থেকে বিয়ে-সাদির অনুষ্ঠান—সবখানেই জায়গা করে নিচ্ছে।

তারপরও বৈশাখের আবহে কাঁচা ফুলের আবেদন কমেনি। বরং সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে বেশ। যশোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা দেশি ফুল এখন আগের তুলনায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।

আগে যেখানে একটি ফুল ১০ থেকে ২৫ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ৫০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানিকৃত ফুলের দামও বেড়েছে ৪০ থেকে ১০০ টাকায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বড় অর্ডারের পাশাপাশি খুচরা ক্রেতার সংখ্যাও কয়েকগুণ বেড়েছে। দোকানগুলোর কর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন—ফুল সাজানো, অর্ডার নেওয়া, সরবরাহ নিশ্চিত করা—সব মিলিয়ে এক মুহূর্তও থামার সুযোগ নেই। বৈশাখের আগের রাতেও চলছে অর্ডার নেওয়ার হিড়িক।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে নতুন বছরের শুরুতেই মোমিন রোডের ফুলের বাজারে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। ফুলের রঙ, ঘ্রাণ আর মানুষের উচ্ছ্বাসে চট্টগ্রামের বৈশাখ এবার যেন আরও প্রাণবন্ত, আরও আশাবাদী।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি