back to top

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে এসএসসি কেন্দ্র: দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী ঝুঁকিতে!

অনুমোদন নিয়ে অস্পষ্টতা, নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদাসীনতা

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:০৪

চট্টগ্রামের নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকার কুসুম কুমারী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অতিরিক্ত পরীক্ষার্থীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে প্রায় ১৫০ থেকে ১৯০ জন শিক্ষার্থীকে বসানো হচ্ছে পাশের একটি নির্মাণাধীন প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে। যেখানে নেই ন্যূনতম নিরাপত্তা কিংবা স্বাস্থ্যকর পরিবেশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রতিবছর এ কেন্দ্রে প্রায় ৬৫০ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিলেও এ বছর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০৮ জনে।

স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় সাতটি কক্ষে পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে নির্মাণাধীন ভবনটি স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের অধীনে নির্মিত হলেও সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরের আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

যদিও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, তারা সব পক্ষের অনুমোদন নিয়েই কেন্দ্র স্থাপন করেছে।

এ বিষয়ে এলজিইডির জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী মো. তুহিন জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ রয়েছে।

এ অবস্থায় নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখে পরীক্ষা আয়োজন করলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। তাছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা না নেওয়ার জন্যও তারা নিষেধ করেছিলেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ঝুঁকি রয়ে গেছে। সিঁড়ি ও বারান্দায় কোনো নিরাপত্তা রেলিং নেই। জানালার গ্রিল বা কাঠামো অসম্পূর্ণ।

বিদ্যুৎ সংযোগ ঝুঁকিপূর্ণভাবে অস্থায়ী লাইনে নেওয়া। সিঁড়ি ভেজা ও পিচ্ছিল, পাইপ থেকে পানি পড়ছে। ইট, বালি, রডসহ নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। টয়লেট সুবিধা নেই।

বিশেষ করে ভবনের প্রবেশপথে বড় গর্ত বালিভর্তি বস্তা দিয়ে আংশিক ঢেকে রাখা হয়েছে, যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বলছে, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কুসুম কুমারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৬৯ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়।

পরে ১৯৭২ সালে প্রাথমিক অংশ জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে মাধ্যমিক অংশটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালে, যা চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বছর নতুন একটি বিদ্যালয় যুক্ত হওয়ায় মোট চারটির পরিবর্তে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—কাজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয়, শাহ ওয়ালীউল্লাহ ইনস্টিটিউট, মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি (এমইএস) উচ্চ বিদ্যালয়, বলুয়ারদিঘী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পাহাড়িকা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

কুসুম কুমারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. লোকমান উদ্দিন বলেন, “পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে এই ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই পরীক্ষা নেওয়া হবে।”সূত্র-কালবেলা

অন্যদিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, “বোর্ডের পরিদর্শন টিমের অনুমতি নিয়েই কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

ঝুঁকি থাকলে সেখানে পরীক্ষা নেওয়া হতো না। তবে অভিযোগ পাওয়ায় বিষয়টি পুনরায় পরিদর্শন করা হবে।”

পরীক্ষা শুরু হতে আর মাত্র দুদিন বাকি। আগামী মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সারাদেশে একযোগে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে এবার পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কেন নির্মাণাধীন ভবনে পরীক্ষা আয়োজন? দায় নেবে কে, যদি ঘটে কোনো দুর্ঘটনা?

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি