back to top

“৩০ লাখ দাও, না হলে ব্যবসা বন্ধ”-অস্বীকৃতিতেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তাণ্ডব

প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৫:০৯

চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হামলার অভিযোগ উঠেছে। ৩০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে চান্দগাঁওয়ের নাজীর সড়কের ওসমানের মোড়ে অবস্থিত ‘জি ডট টেক সলিউশন’ নামের প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার এসএম বদরুদ্দোজা হৃদয় এ ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার এসএম বদরুদ্দোজা হৃদয় জানান, কয়েকদিন ধরে এলাকার কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি তার কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল। তারা হুমকি দেয়, টাকা না দিলে এলাকায় ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।

শনিবার সন্ধ্যায় মো. দিদার (৪৫), মো. ফারুক (৩০), মো. নয়ন (২৮), মো. হাছান (২৫) ও মো. বায়েজিদ (৩০)-এর নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ে। তারা আবারও ৩০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় হামলা।

হৃদয়কে মারধর করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। আঘাত ঠেকাতে গিয়ে তার বাম হাত জখম হয়। পরে আবারও মাথায় আঘাত করা হয়।

তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হন তার ছোট ভাই এসএম মাহিদ শাহরিয়ার (২২) এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী তাসবিদ (১৭), নুর মোহাম্মদ সাঈদ (২৬), ওয়াসি কামাল (২৬), সোহান (২২) ও জাহেদ (২২)।

হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের দুটি কম্পিউটার, একটি ল্যাপটপ ও একটি আইপ্যাড ভাঙচুর করে এবং আসবাবপত্র নষ্ট করে।

এতে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ক্যাশবাক্স থেকে ৯ লাখ ৪৭ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী হৃদয় জানান, পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। তিনি এ ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুর হোসেন মামুন বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রকাশ্যে এভাবে চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

চাঁদাবাজি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের সহিংসতা আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের।

এখন দেখার বিষয়, সিসিটিভি ফুটেজ ও অভিযোগের ভিত্তিতে কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি