back to top

রেলে লাখো কোটি টাকার ‘উন্নয়ন’ গেল কই?

রেলখাতে নতুন পরিকল্পনা: ব্যর্থতার পর পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা!

প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৫০

বাংলাদেশ রেলওয়েতে গত দেড় দশকে সরকারি হিসেবে এক লাখ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। কাগজে-কলমে এটি এক বিশাল উন্নয়নযজ্ঞ।

কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। নতুন রেললাইন তৈরি হলেও বাড়েনি ট্রেনের সংখ্যা, বাড়েনি সেবার মান। বরং বহু প্রকল্প এখন ব্যর্থতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ করে ৬০০ কোটি টাকায় চীন থেকে কেনা ২০ সেট ডেমু ট্রেন প্রকল্প এখন রেল খাতের অন্যতম বিতর্কিত উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রেল খাতে নেওয়া একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত ও ব্যর্থ উদ্যোগগুলোর একটি হলো প্রায় ৬০০ কোটি টাকায় চীন থেকে কেনা ২০ সেট ডেমু ট্রেন।

২০১৩ সালে চালু হওয়া এই প্রকল্প আজ প্রশ্নবিদ্ধ—এটি কি উন্নয়ন ছিল, নাকি রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের একটি বড় উদাহরণ?

উদ্দেশ্য ছিল স্বল্প দূরত্বে আধুনিক ও দ্রুত যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করা। কিন্তু চালুর মাত্র তিন থেকে সাত বছরের মধ্যেই একে একে অচল হয়ে পড়ে সব ডেমু ট্রেন। সাত বছরের মধ্যে সবগুলো ডেমু ট্রেনই কার্যত অচল হয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্টেশনে পড়ে আছে কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায়।

অথচ এই প্রকল্পে যাত্রী পরিবহন থেকে আয় হয়েছে মাত্র ২২ কোটি টাকা, বিপরীতে রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা।

অচল সম্পদের পাহাড়
বর্তমানে সবগুলো ডেমু ট্রেন দেশের বিভিন্ন স্টেশনে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দুই পাশে দুটি ইঞ্জিন ও মাঝখানে একটি কোচ নিয়ে গঠিত প্রতিটি সেটই এখন কার্যত স্ক্র্যাপের পর্যায়ে। একাধিকবার মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা টেকেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২০-২১ সালে একটি ডেমু ট্রেন মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয় পার্বতীপুর ওয়ার্কশপে।

পরে মেরামত শেষে ২০২২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম ট্রেনটির পরীক্ষামূলক চলাচল উদ্বোধন করেন।

এর মাত্র ১৫ দিনের মাথায় আবার বিকল হয়ে পড়ে একটি ইঞ্জিন। যা পুরো প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং প্রকল্পটিকে লোকসানের গভীরে ঠেলে দিয়েছে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে রেল খাতে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর বড় অংশ ব্যয় হয়েছে নতুন রেললাইন নির্মাণে।

তবে সমালোচকদের মতে—অবকাঠামো বাড়লেও পর্যাপ্ত ইঞ্জিন ও কোচ কেনা হয়নি। নতুন লাইনের সঙ্গে পরিচালনা সক্ষমতার সমন্বয় হয়নি। ট্রেন চলাচলের সংখ্যা বরং অনেক ক্ষেত্রে কমেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমন্বয়হীন পরিকল্পনা ও দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার কারণেই ডেমু প্রকল্প আজ ব্যর্থতার প্রতীক।

ডেমু সচলে নতুন সরকারের পরিকল্পনা:
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে এই অচল ডেমু ট্রেনগুলো পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে সমালোচকরা বলছেন—যে প্রকল্প এক দশকে ব্যর্থ হয়েছে, সেটিকে আবার পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা কতটা বাস্তবসম্মত?

এছাড়াও রেল খাতে নতুন আন্তনগর ট্রেন, রেললাইন উন্নয়ন, ইঞ্জিন-বগি সংস্কার ও নতুন কেনাসহ একগুচ্ছ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকারের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

সেখানেও প্রশ্ন থেকে যায়, অতীতে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন পরিকল্পনা কি শুধুই আরেকটি কাগুজে উন্নয়ন?

তবে ঝুঁকি জেনেও বর্তমান রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে অন্তত একটি ডেমু ট্রেন সচল করার পাইলট প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে রেলওয়ের বর্তমান মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী রেল খাতে বড় সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তার মধ্যে প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে অন্তত একটি ডেমু ট্রেন পাইলট ভিত্তিতে চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সফল হলে পর্যায়ক্রমে বাকিগুলো সচল করা হবে।

এর আগে চলতি মাসের প্রথম দিনে ঢাকায় রেল ভবনে একটি পর্যালোচনা সভা করেন রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সেখানেই স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।

গেল ১২ মার্চ ঢাকায় আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম সভায় বলেছিলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত রেল উন্নয়ন পরিকল্পনা হিসেবে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে রেলকে জাতীয় পরিবহনের কেন্দ্রীয় মেরুদণ্ড হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

ডেমু পুনরুজ্জীবন কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি এক্সপ্রেস সার্ভিস বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন, সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং বুলেট ট্রেন সংযোগ স্থাপনকেও উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে ধরা হয়েছে। সূত্র-P.A

ডেমু পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনা:
রেলওয়ের ডেমু পুনরুজ্জীবন কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী-প্রথম চার মাসে (মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত) রেলওয়ের অকেজো ও অব্যবহৃত ডেমু ট্রেনগুলো ব্যবহারের উপযোগী কমিউটার ট্রেনে রূপান্তর করতে চায় রেল।

এ জন্য পাইলটিংয়ে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে এবং প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে। পরের দুই মাসে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের কাছে অকেজো ও অব্যবহৃত ডেমু ট্রেন হস্তান্তর করা হবে।

প্রথম ধাপে অন্তত ১টি ডেমু চালুর লক্ষ্য বর্তমান রেল কর্তৃপক্ষের। সফল হলে ধাপে ধাপে সব ডেমু পুনরায় চালু করা হবে।

রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মতে, ডেমু ট্রেনগুলো সচল করা হলে স্বল্প দূরত্বে বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবে। আর তাই এ কার্যক্রমের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রেলওয়ের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক)-কে।

অন্তর্বর্তী পরিকল্পনায় নতুন ট্রেন ও উন্নয়ন :
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল মিলিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন আন্তনগর রুটে মোট ৩৫ জোড়া ট্রেন চললেও নতুন রুট যুক্ত করে আয় ও যাত্রী পরিবহন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে নতুন সরকারের।

আর তাই অন্তর্বর্তী ছয় মাসের পরিকল্পনায় নতুন ট্রেন ও উন্নয়নের মধ্যে প্রথম চার মাসের মধ্যে ঢাকা-খুলনা রুটে একটি এবং পরের দুই মাসে ঢাকা-পাবনা রুটে একটি করে আন্তনগর ট্রেন চালু করতে চায় রেল।

তাছাড়া সরকারের প্রথম ৬ মাসে ৩০টি মিটারগেজ ও ৪০টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চুক্তি এবং এশিয়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) অর্থায়নে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন করতে চায় রেল।

এক বছর মেয়াদি বড় প্রকল্প-ইঞ্জিন, কোচ ও অবকাঠামো পরিকল্পনা: 
বর্তমান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার আগামী এক বছর মেয়াদি বড় প্রকল্প (২০২৬–২৭ অর্থবছর) এ যেসব পরিকল্পনায় হাতে রেখেছে তার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন (একটি সংক্ষিপ্ত ও সোজা রেললাইন, যা দূরত্ব ও যাতায়াতের সময় কমিয়ে দেয়) নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতার সমীক্ষা ও নকশার কাজ করতে চায় রেলওয়ে।

এ ছাড়া সান্তাহার-লালমনিরহাট সেকশন, আবদুলপুর-রাজশাহী সেকশনকে ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা সম্পন্ন করতে চায় এই সময়ে।

ঢাকা-পঞ্চগড় ও ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ করিডরে ডাবল রেললাইন নির্মাণের বিষয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প প্রণয়ন ও অনুমোদন করবে। এ ছাড়া লাকসাম-চট্টগ্রাম ও টঙ্গী-আখাউড়া সেকশনকে ডুয়েলগেজে উন্নীত করার জন্য প্রকল্প নেওয়া হবে।

ইঞ্জিনের সংকটে থাকা পূর্বাঞ্চলের এ সমস্যা নিরসনে চট্টগ্রাম-দোহাজারী মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজ রেলপথ রূপান্তর শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩০টি ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভ কেনার দরপত্র দেওয়া হবে এবং সরবরাহকারীর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।

আরেকটি প্রকল্পের আওতায় ৩০টি ইঞ্জিন কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান এবং এ প্রক্রিয়া শেষে সরবরাহকারীর সঙ্গে চুক্তি করার কথা বলা হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বেসরকারি খাতে রোলিং স্টক (ইঞ্জিন-কোচ) সংগ্রহসহ ট্রেন পরিচালনায় প্রাক্‌–সম্ভাব্যতা সমীক্ষা যাচাইয়ের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে এই এক বছরের মধ্যে।

২০৩০ লক্ষ্য ও মেগা প্রকল্প:
রেলওয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি কালুরঘাটে নতুন সেতুর নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ করে ভৌত কাজ ২০ শতাংশ সম্পন্ন করবে রেল। চট্টগ্রাম-দোহাজারী মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের কাজও ৩০ শতাংশ করার লক্ষ্য আছে।

তাছাড়া ৬০টি নতুন মিটারগেজ ইঞ্জিন, ২০০টি মিটারগেজ বগি, ২৬০টি ব্রডগেজ বগি এবং ৪টি উদ্ধারকারী ট্রেন কেনার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ ও সংগ্রহের প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় রেলওয়ে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের টঙ্গী থেকে আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম সেকশনের মোট ২২৭ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনের নির্মাণকাজ ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন করতে চায় রেলওয়ে।

ঢাকা-কুমিল্লার দূরত্ব ৯০ কিলোমিটার এবং ভ্রমণের সময় ২ ঘণ্টা কমাতে ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি রেললাইন (কর্ড লাইন) নির্মাণের জন্য প্রকল্প অনুমোদন, জমি অধিগ্রহণ ঠিকদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ করে ভৌত কাজ শুরু করা হবে।

জাইকার অর্থায়নে ঈশ্বরদী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনের নির্মাণকাজ ২০৩০ সালের মধ্যে ৮০ শতাংশ সম্পন্ন করার লক্ষ্য আছে।

বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইনের নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০৩০ সালের মধ্যে। ঢাকা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত তৃতীয় ও চতুর্থ লাইনের নির্মাণকাজও এই সময়ের মধ্যে শেষ করতে চায় রেল।

এবং ময়মনসিংহ-জামালপুর সেকশন থেকে শেরপুর হয়ে নকুলগাঁও স্থলবন্দর পর্যন্ত রেল সংযোগের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশার কাজও হবে।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, সব কার্যক্রম ১৫ দিন পরপর মন্ত্রণালয়কে অগ্রগতি রিপোর্ট আকারে জানানো হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, রেলকে জাতীয় পরিবহনের কেন্দ্রীয় মেরুদণ্ড হিসেবে গড়ে তুলতেই এসব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ব্যর্থতা বনাম নতুন আশা :
অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, বড় বড় পরিকল্পনা থাকলেও সমন্বয় ও বাস্তবায়ন ঘাটতির কারণে রেল খাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারও যদি সঠিক তদারকি না থাকে, তাহলে নতুন পরিকল্পনাও পুরোনো ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, রেল খাতে বড় সমস্যা হলো সমন্বয়হীন পরিকল্পনা। তাদের মতে—অবকাঠামো উন্নয়ন হলেও রোলিং স্টক পর্যাপ্ত নয়, প্রকল্প শেষ হলেও ব্যবহারের সক্ষমতা দুর্বল এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা অনুপস্থিত।

উন্নয়ন নাকি প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয়?
ডেমু ট্রেন প্রকল্প থেকে শুরু করে বৃহৎ রেল অবকাঠামো উন্নয়ন—সব মিলিয়ে রেল খাতের অগ্রগতির গল্প এখন জটিল প্রশ্নের মুখে।

একদিকে বিপুল বিনিয়োগ, অন্যদিকে অচল ট্রেন ও সীমিত সেবা—এই ব্যবধানই এখন সবচেয়ে বড় বিতর্কের জায়গা। রেল উন্নয়ন কি সত্যিই জনগণের জন্য কার্যকর হয়েছে, নাকি এটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাগত দুর্বলতা ও ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অমীমাংসিত।

বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন , এই বিশাল কর্মপরিকল্পনা এবারও কি বাস্তবায়নের রূপ পাবে, নাকি আগের মতোই পরিকল্পনার কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে?

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আর এসপি