আমানত ফেরত, হেয়ার কাট (মুনাফা কেটে রাখা) বাতিল এবং লেনদেন স্বাভাবিক করার দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ করেছেন একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকেরা।
বুধবার সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এবং পরে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন-চট্টগ্রাম বিভাগ’ ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গ্রাহকেরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরতের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন।
একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক।
এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট জমা রয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে নগরের নিউমার্কেট মোড়ে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন আমানতকারীরা।
পরে তারা মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং নিউমার্কেট এলাকায় কর্মসূচি সীমাবদ্ধ রাখার অনুরোধ জানায়।
এরপর তারা আলকরণ মোড়ে, জিপিওর বিপরীতে অবস্থান নেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আমানতকারীরা জানিয়েছেন, “আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। অথচ আমাদের দুষ্কৃতকারী বলা হচ্ছে। আমরা এই বক্তব্য প্রত্যাহার চাই। আমরা শুধু আমাদের টাকা ফেরত চাই।”
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক আমানতকারী বিভিন্ন ব্যাংকের চেক হাতে নিয়ে অবস্থান করছেন। তাদের অভিযোগ, ব্যাংক থেকে ব্যাংকে ঘুরেও তারা টাকা তুলতে পারছেন না। বরং তাদের ‘মবকারী’ বা ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
কর্মসূচির একপর্যায়ে আমানতকারীদের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংক-এর আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে তিন দফা দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেয়।
দাবিগুলো হলো—আমানত ফেরতের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্রের বক্তব্য প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকা।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমাদের টাকায় ব্যাংক চলে, অথচ আমাদেরই অপমান করা হচ্ছে। আজ আমরা ৫ হাজার, কাল ৫০ হাজার হব।”
এর আগে রবি ও সোমবার খাতুনগঞ্জ ও আগ্রাবাদ এলাকায় এই পাঁচ ব্যাংকের নয়টি শাখায় তালা দেন বিক্ষুব্ধ আমানতকারীরা।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদ প্রকাশিত হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, গ্রাহকদের দাবির আড়ালে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মসূচির স্থান সীমিত রাখতে বলা হয়েছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



