back to top

ফ্লাইওভারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত লাশ: হত্যা–আত্মহত্যা বিতর্কে চট্টগ্রাম

আত্মহত্যার ধারণা পুলিশের, পরিবারের দাবি ভিন্ন

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬ ০৮:১৮

চট্টগ্রাম মহানগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া কাউসার আহমেদ নামে এক যুবকের মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা।

একদিকে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা—এটি আত্মহত্যা; অন্যদিকে পরিবারের অভিযোগ—এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দুই ভিন্ন ব্যাখ্যার মাঝেই এখন থমথমে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকা।

গত সোমবার (১১ মে) রাতে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লাইওভারের ওপর থেকে কাউসারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরদিন মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হয় পরিবারের কাছে। ঘটনার পরপরই পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।

নিহত কাউসার আহমেদ (২৭) নগরীর পশ্চিম ফিরোজশাহ এলাকার বাসিন্দা এবং বিএসআরএম কারখানায় নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পাশাপাশি তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলে দাবি করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাবেক কয়েকজন নেতা।

তবে পুলিশের অবস্থান ভিন্ন। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের নাম আবু কাউসার হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

তাদের কাছে তার কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার তথ্য নেই। প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার দিকেই ইঙ্গিত মিলছে বলে জানান তিনি।

ওসি নুরুল আবছার বলেন, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদকাসক্তি ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকায় আত্মহত্যার সম্ভাবনাই সামনে আসছে।

তবে এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ নিহতের পরিবার। তাদের দাবি, কাউসারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ফ্লাইওভারের ওপর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যায়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

সাবেক কিছু ছাত্রলীগ নেতার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নিহত কাউসার সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

পাহাড়তলী থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) রুহুল আমিন লাবু জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

ফ্লাইওভারের ওপর ওই যুবক কীভাবে উঠলেন, তার সঙ্গে অন্য কেউ ছিল কি না, কিংবা কোনো প্ররোচনা ছিল কি না—সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা বিশ্লেষণ চলছে। তদন্তের স্বার্থে সব সম্ভাবনাই খোলা রাখা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপাতত প্রশ্ন একটাই—এটি কি আত্মহত্যা, নাকি আড়ালের কোনো পরিকল্পিত মৃত্যু? সেই উত্তর খুঁজছে তদন্ত, আর উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি