back to top

রোগী-লাশ পরিবহনে বাধা? সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন চাইলেন সিএমএম

হাসপাতালের গেটের বাইরে কার নিয়ন্ত্রণ,তদন্তে নামল পুলিশ

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬ ১৫:২০

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কথিত অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের অভিযোগ এবার আদালতের নজরে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) এজিএম মনিরুল হাসান সরকার।

সোমবার জারি করা এক প্রশাসনিক আদেশে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনারকে (এডিসি) সরেজমিনে তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, হাসপাতাল এলাকায় বাইরে থেকে আসা বৈধ অ্যাম্বুলেন্স কিংবা রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনদের নিজস্ব যানবাহন ব্যবহার করে পরিবহনসেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী গাড়িচালকদের ভয়ভীতি দেখানো, হেনস্তা করা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মারধরের মতো ঘটনাতেও জড়িত।

তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির চাঁদাবাজি, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বেআইনি বাধা দেওয়ার ধারাসহ প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইনেও মামলা করার সুযোগ রয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশনায় আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রোগী বা মৃত ব্যক্তির স্বজনেরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স, ফ্রিজিং ভ্যান কিংবা অন্য কোনো বৈধ যানবাহন ব্যবহার করতে পারেন। কোনো বৈধ গাড়ির প্রবেশ বা সেবা প্রদানে বাধা দেওয়া যাবে না।

চমেক হাসপাতাল দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতিদিন চট্টগ্রামসহ আশপাশের জেলা থেকে হাজারো রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে হাসপাতালকে কেন্দ্র করে অ্যাম্বুলেন্সসেবার চাহিদাও ব্যাপক।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সেবায় স্বচ্ছতা ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি কমবে এবং সেবার মানও উন্নত হবে।

আদালতের এই নির্দেশনার পর এখন নজর থাকবে তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয় তার দিকে।

হাসপাতাল এলাকায় দীর্ঘদিনের আলোচিত এই অভিযোগের কার্যকর সমাধান প্রত্যাশা করছেন রোগী ও সাধারণ মানুষ।