back to top

তিন দেশ, তিন মঞ্চ, এক বিশ্বকাপ: ইতিহাসের পথে ফিফা

শাকিরা থেকে লিসা-তারকাদের মহামিলনে জমকালো সূচনা

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬ ০৮:৩১

ফুটবলের সর্বোচ্চ মহাযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপ বরাবরই কোটি কোটি মানুষের আবেগ, উন্মাদনা ও স্বপ্নের নাম। তবে ২০২৬ সালের আসর সেই পরিচিত পরিধিকে আরও বিস্তৃত করতে যাচ্ছে এক অনন্য আয়োজনের মাধ্যমে।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি আয়োজক দেশে তিনটি পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠবে ফিফা বিশ্বকাপের।

মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য এই ব্যতিক্রমী আয়োজন ফুটবল ও সংগীতপ্রেমীদের জন্য হয়ে উঠবে এক বৈশ্বিক উৎসব।বিশ্বকাপ

প্রতিটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট উদ্বোধনী ম্যাচ শুরুর ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে, যেখানে ফুটবলের আবেগের সঙ্গে যুক্ত হবে বিশ্বের জনপ্রিয় সংগীত তারকাদের পরিবেশনা।

মেক্সিকো সিটিতে প্রথম:
উদ্বোধনী উৎসবের প্রথম অধ্যায় রচিত হবে আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকায়।

এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘দাই দাই’-এর প্রথম সরাসরি পরিবেশনা।

মঞ্চে দেখা যাবে কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান শিল্পী বার্না বয়কে।

পাশাপাশি পারফর্ম করবেন জে বালভিন, মানা, আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্দা ও টাইলাসহ আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক তারকা।বিশ্বকাপ

ফলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি শুরু থেকেই বিশ্বকাপের উৎসবমুখর আবহকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

কানাডার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের রঙ:
দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ১২ জুন কানাডার টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য থাকবে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় ও বৈচিত্র্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা।

সেই মঞ্চে গান শোনাবেন মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা এবং জেসি রেইয়েজ।

তাঁদের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে কানাডার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আধুনিক সংগীতধারার এক অনন্য মেলবন্ধন উপভোগ করবেন দর্শকরা।

যুক্তরাষ্ট্রে তারকাখচিত সমাপনী উদ্বোধন:
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় ও শেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় সংগীত তারকাদের উপস্থিতিতে এই আয়োজনও হতে যাচ্ছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।বিশ্বকাপ

মঞ্চে পারফর্ম করবেন ক্যাটি পেরি, ব্ল্যাকপিংকের সদস্য লিসা, ফিউচার, অ্যানিত্তা, রেমা ও টাইলা।

সংগীত, আলো ও প্রযুক্তিনির্ভর চমকপ্রদ উপস্থাপনায় এই অনুষ্ঠান বিশ্বকাপের উদ্বোধনী উৎসবকে আরও বর্ণিল করে তুলবে।

একই ভাবনা, ভিন্ন সংস্কৃতির উদযাপন:
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা একই হলেও প্রতিটি আয়োজক দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি, সংগীত ও ঐতিহ্যকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে।

ফলে দর্শকরা শুধু ফুটবল নয়, তিনটি ভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও এক অনন্য প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবেন।

বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক টেলিভিশন ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠানগুলো সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন।

ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি হবে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এক মহা উৎসব, যেখানে খেলার উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত হবে বৈশ্বিক সংগীতের ঝলক।

ফলে বলা যায়, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, বরং তিন দেশকে কেন্দ্র করে এক অভূতপূর্ব সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া উদযাপনের নাম হতে যাচ্ছে। ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লিখতে প্রস্তুত বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ক্রীড়া আসর।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি