তরুণদের মধ্যে যুক্তিবোধ, নেতৃত্বগুণ এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশে বিতর্কচর্চার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
এই ধারাবাহিকতায় ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এনডিএফ বিডি), চট্টগ্রাম জোনের উদ্যোগে চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন “ওয়ার্ল্ড কাপ ডিবেট ২০২৬”।
“বিশ্বকাপে আমিই সেরা” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন ফাউন্ডেশন ডিবেট কোর্সের ছয়জন প্রশিক্ষণার্থী তার্কিক।
তারা ছয়টি পৃথক দলকে প্রতিনিধিত্ব করে যুক্তি, বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনা দক্ষতার মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরেন।
বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতামূলক আবহকে ধারণ করে সাজানো এ আয়োজন অংশগ্রহণকারী ও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
বিতর্ক পর্বে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তথ্যনির্ভর যুক্তি উপস্থাপন করেন।
প্রতিযোগিতার মূল আকর্ষণ ছিল অংশগ্রহণকারীদের আত্মবিশ্বাস, তাৎক্ষণিক চিন্তাশক্তি এবং যুক্তিকে সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপনের দক্ষতা।
এর মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব, দলগত কাজ এবং কার্যকর যোগাযোগের গুরুত্বও ফুটে ওঠে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অংশগ্রহণকারীদের জন্য আয়োজন করা হয় একটি কাহুট কুইজ প্রতিযোগিতা।
প্রযুক্তিনির্ভর এই কুইজ আয়োজন অনুষ্ঠানে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য যোগ করে এবং অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনডিএফ বিডির চেয়ারম্যান একে এম শোয়াইব। তিনি বিজয়ী বিতার্কিক ও কুইজ প্রতিযোগিতার সেরাদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিআইইউ আউটরিচ কমিটির কনভেনার ড. ইমন কল্যাণ, চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির রেজিস্টার মিস লিমা এবং এনডিএফ বিডির কো-চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরী।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বিতর্কচর্চা শুধু প্রতিযোগিতামূলক একটি কার্যক্রম নয়, বরং এটি একজন তরুণকে যুক্তিনির্ভর, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিতর্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মতামত প্রকাশের সাহস অর্জন করে, ভিন্নমতকে সম্মান করতে শেখে এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্যের প্রাচুর্যের মধ্যে সঠিক তথ্য যাচাই ও বিশ্লেষণের দক্ষতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিতর্কচর্চা সেই দক্ষতা অর্জনের একটি কার্যকর মাধ্যম।
নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করতে এবং যুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনে এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
সার্বিকভাবে, “ওয়ার্ল্ড কাপ ডিবেট ২০২৬” শুধু একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা নয়; বরং এটি তরুণদের চিন্তা, যুক্তি, নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতার বিকাশে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে আরও বেশি তরুণ বিতর্কচর্চার সঙ্গে যুক্ত হবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

