স্বামী-স্ত্রী একসাথে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। হাসিখুশি মুহূর্ত কাটিয়ে রাতে শাশুড়ির বাসাতেও যান হৃদয়।
কিন্তু কেউ কি ভেবেছিল, সেই শনি আর রবিবারের সীমানা পেরোতেই একটি পুরো পরিবারে নেমে আসবে ঘোর অমানিশা?
রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় আজ রবিবার সকালে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ফারজানা বেগম ওরফে রাত্রি (২০) ও শাশুড়ি ফিরোজা বেগমকে (৩৮) নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে হৃদয় ওরফে শিপন (৩০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হৃদয় ও তার স্ত্রী ফারজানার মধ্যে আচমকা বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
ঝগড়া যখন তীব্র রূপ নেয়, তখন মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন মা ফিরোজা বেগম। তিনি ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করে মেয়ের পক্ষ নিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন হৃদয়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধারালো ছুরি নিয়ে নিজের স্ত্রী ও শাশুড়ির ওপর চড়াও হন তিনি।
ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাপ্লুত হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান স্ত্রী ফারজানা। অন্যদিকে শাশুড়ি ফিরোজা বেগমকে সংকটাপন্ন অবস্থায় দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই কলাবাগান থানা-পুলিশ ক্ষিপ্রতার সাথে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হৃদয়কে আটক করেছে।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, গতকাল রাতে শনিবার মোহাম্মদপুরে একটি অনুষ্ঠান শেষে হৃদয় তার স্ত্রীকে নিয়ে শাশুড়ির বাসায় যান।
আজ সকালে তুচ্ছ পারিবারিক কলহ থেকে এই নৃশংসতার জন্ম। অভিযুক্তকে আমাদের হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাসাবাদ করা হচ্ছে।
নিহতদের বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়। ঠিক কী কারণে সাধারণ এক পারিবারিক ঝগড়া এমন রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ডে রূপ নিল, তা উন্মোচনে গভীরভাবে তদন্ত চালাচ্ছে কলাবাগান থানা পুলিশ।
সকালে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনাটি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে দিয়েছে গভীর শোক আর স্তম্ভিত নীরবতা।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

