নবীপ্রেমের অভূতপূর্ব এক সকাল, ঐতিহাসিক ৫৫তম জশনে জুলুসে লাখো মানুষের ঢল

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১৫

ভোরের স্নিগ্ধ আলো ফুটতেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামের রূপ বদলে যেতে শুরু করে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে শুরু করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রতিটি প্রবেশপথ-সব গিয়ে মিশেছে যেন একই মোহনায়।

বাসে, ট্রাকে কিংবা দূর-দূরান্ত থেকে হেঁটে আসা লাখ লাখ মানুষের মুখে এক ও অভিন্ন ধ্বনি।

সাম্য, অহিংসা আর প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শের মানবিক বার্তা নিয়ে চট্টগ্রামে পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক ৫৫তম জশনে জুলুস

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে আয়োজিত এ মহাসমাবেশে যেন নেমে এসেছে এক আত্মিক সুবাতাস।

আয়োজক সংস্থা ‘আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’-এর মতে, এবারের জুলুসে সমাগম হতে যাচ্ছে ৫০ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মানুষের।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টায় নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়বিয়া থেকে এই মহাজুলুসের সূচনা হয়।

দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহের নূরানী নেতৃত্বে এই জুলুস রূপ নেয় এক চলন্ত জনসমুদ্রে। পাশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব শাহ।জশনে জুলুসে

মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার হয়ে টাইগারপাস-নগরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন সুসজ্জিত তোরণ, রঙের ব্যানার আর সবুজ পতাকায় এক অপরূপ রূপ ধারণ করেছে। বর্ণিল এই সাজসজ্জায় চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে পথচারীদের।

জুলুসটি পুরো নগর প্রদক্ষিণ শেষে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে অনুষ্ঠিত হবে বিশাল মাহফিল, জোহরের জামাত এবং সর্বশেষে দেশ, জাতি ও বিশ্বের সকল নিপীড়িত মানুষের সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত।

এই বিশাল জনসমুদ্রকে সুশৃঙ্খল রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে নেমেছেন আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক।

নগরজুড়ে মুসল্লিদের সেবায় বসানো হয়েছে শতাধিক অস্থায়ী শৌচাগার, দেওয়া হচ্ছে সুপেয় পানি।

ঐতিহ্যের পাতা উল্টে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে আওলাদে রাসুল আল্লামা হাফেজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.)-এর দিকনির্দেশনায় চট্টগ্রামে এই জশনে জুলুসের শুভ সূচনা হয়েছিল।জশনে জুলুস

সময়ের আবর্তে সেই ছোট্ট আয়োজন আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও মানবিক মহাসমাবেশে রূপ নিয়েছে।

নিরাপত্তার সার্বিক বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী দৃঢ়তার সাথে জানান, জশনে জুলুসের মতো সুবিশাল ও সংবেদনশীল মহাসমাবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো প্রকার আপস করা হবে না।

ভালোবাসা, শৃঙ্খলা আর সম্প্রীতির এই ঐতিহাসিক মেলবন্ধন পুরো চট্টগ্রামকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এক অন্যরকম মানবিক ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতায়।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি