যে মা দশ মাস দশ দিন জঠরে আগলে রেখে জন্ম দিয়েছেন, বড় করেছেন বুকচাপা কষ্টে-সেই মায়ের শরীরেই হাত তুলতে বিন্দুমাত্র কাঁপল না কুলাঙ্গার ছেলের হাত।
শেষ পর্যন্ত পটিয়ায় মাদকাসক্ত ছেলের হাতে নিরুপায় মায়ের এমন নিষ্ঠুর প্রহারের শিকার হওয়ার ঘটনা গড়িয়েছে আইনের দরবারে।
গত ২৫ আগস্ট (সোমবার) সন্ধ্যায় পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নাইখাইন এলাকায় ঘটে এই মর্মন্তুদ ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটিয়ার নাইখাইন এলাকার মৃত সামশুল আলমের ৪০ বছর বয়সী ছেলে নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরেই মাদকের মারাত্মক নেশায় আসক্ত।
নেশার টাকার জন্য সে প্রায়শই তার বয়োবৃদ্ধ মাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় টাকার দাবিতে উন্মত্ত হয়ে সে আবারও মায়ের ওপর নির্মম হামলা ও মারধর চালায়। বৃদ্ধা মায়ের কান্না ও আর্তচিৎকারেও মন গলেনি ঘাতকতুল্য এই ছেলের।
পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হকের সরাসরি নেতৃত্বে এবং এসআই (নিরস্ত্র) মো. আখতার হোছাইন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পটিয়া থানা-পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তারের পরপরই আসামি নুরুল ইসলামকে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) পরিচালনাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়।
আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানির ভিত্তিতে অভিযুক্ত নুরুল ইসলামের অপরাধের সত্যতা পান এবং তাকে ৬০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
নিজের গর্ভধারিণী মায়ের গায়ে হাত তোলার মতো জঘন্য ও নীতিহীন ঘটনায় ক্ষোভে ফুসে উঠেছে পুরো এলাকা। এক মায়ের আর্তনাদ আর বিচার পাওয়ার এই খবরে পুরো পটিয়াজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল আশা করছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সমাজ থেকে পরিবারভিত্তিক এমন সহিংসতা ও মাদকাসক্তির ব্যাধি দূর করতে কড়া বার্তা দেবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

