পটিয়ায় গভীর রাতে উল্টে গেল বাস: আহত ১৪, গুরুতর দুজন চমেকে

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৪১

দিনশেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘরে ফিরছিলেন মানুষগুলো। কারও চোখে ছিল পরিবারের কাছে ফেরার তাড়া, কারও বুকে ছিল একটু বিশ্রামের আকুলতা।

কিন্তু এক নিমেষেই সেই আনন্দ বিষাদে রূপ নিল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার মনসা বাদামতল এলাকায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সড়কে উল্টে গেছে একটি যাত্রীবাহী মিনিবাস।

গতির উন্মাদনায় মুহূর্তেই তছনছ হয়ে গেল ১৪টি সাধারণ মানুষের জীবন, মহাসড়ক লীন হলো আর্তনাদে।

হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মিনিবাসটি চট্টগ্রাম নগরী থেকে যাত্রী নিয়ে পটিয়া বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল।

কিন্তু মনসা বাদামতল এলাকায় পৌঁছামাত্রই দ্রুতগতির বাসটি চালকের নিয়ন্ত্রণ হারায়।

চোখের পলকে বিশাল গাড়িটি মহাসড়কের ওপর সশব্দে উল্টে যায়। চারদিকের নিস্তব্ধতা ভেঙে ভেসে আসে যাত্রীদের গোঙানি আর বাঁচার আকুতি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও হাইওয়ে পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে রক্তাক্ত ১৪ যাত্রীকে উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মিজানুর রহমান জানান, “হাসপাতালে যখন আহত ১৪ জনকে আনা হয়, তখন চারপাশ এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আমরা সাধ্যমতো সবাইকে জরুরি চিকিৎসা দিয়েছি।

তবে দুজনের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বাকি ১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

মহাসড়কে গতির এই লাগামহীন প্রতিযোগিতা আর কত প্রাণ কাড়বে-এই প্রশ্ন এখন পটিয়াবাসীর। দুর্ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পটিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ।

পটিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত মিনিবাসটি আমরা দ্রুত জব্দ করে হাইওয়ে থানায় নিয়ে এসেছি।

চালকের অসতর্কতা ও অতিরিক্ত গতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সড়কে গতির এই মরণখেলার শেষ কোথায়, তা এখন সময়ের বড় প্রশ্ন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি