তেলাপোকার বিচরণ আর বাসি খাবারের পসরা:দেওয়ানহাটের তিন রেস্টুরেন্টকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৩০

নগরীর দেওয়ানহাট মোড় এলাকা। প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষের আনাগোনা, আর সেই সুযোগে মুখরোচক খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেছে একের পর এক রেস্টুরেন্ট। কিন্তু চটকদার সব খাবারের নেপথ্যে রান্নাঘরের ভেতরে কী চলছে, তা জানতে পারলে যে কারও আঁতকে ওঠার কথা!

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সংরক্ষণ, বাসি খাবার গ্রাহকের পাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি এবং খাবারে অননুমোদিত ক্ষতিকর কেমিক্যাল বা রঙের যথেচ্ছ ব্যবহারের দায়ে দেওয়ানহাটের তিনটি জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টকে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর দেওয়ানহাট মোড় সংলগ্ন এলাকায় চালানো এক ঝটিকা অভিযানে এই চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক চিত্র সামনে আসে।

গ্রান্ড তাজমহলে ‘বিষাক্ত রঙের’ কারবার
অভিযানের প্রথম ধাক্কাটাই আসে ‘গ্রান্ড তাজমহল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ এ। ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায় এক বিভৎস দৃশ্য। মনোরম নামের আড়ালে সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছিল অননুমোদিত ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত কাশ্মীরি মরিচ।

শুধু তা-ই নয়, কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গেই একই ফ্রিজে গাদাগাদি করে রাখা ছিল রান্না করা বাসি খাবার। ফ্রিজ থেকে বের হচ্ছিল পচা দুর্গন্ধ।

রান্না করা বাসি মুরগির চাপ, বাসি মাংস এবং খিচুড়ি অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংরক্ষণ করতে দেখে আক্ষরিক অর্থেই তাজ্জব বনে যান অভিযান পরিচালনাকারীরা।

গুরুতর এসব অপরাধের দায়ে এই প্রতিষ্ঠানের মালিককে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তেলাপোকার রাজত্ব ‘আলিফ রেস্টুরেন্ট’এ
পাশের ‘আলিফ রেস্টুরেন্ট’-এর চিত্র ছিল আরও ভয়াবহ। বাইরে ঝকঝকে পরিবেশ থাকলেও ফ্রিজ খুলতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়!

একই ফ্রিজে কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রাখা বাসি খাবার, আর তার মাঝেই অবাধে বিচরণ করছে তেলাপোকা। এই নোংরা পরিবেশ ও ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের তোয়াক্কা না করার অপরাধে আলিফ রেস্টুরেন্ট মালিকের পকেট থেকে খসল ৫০ হাজার টাকা।

বাদ যায়নি ক্যাফে আরমানও
একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি মেলে ‘ক্যাফে আরমান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ এ। বাসি রান্না করা খাবার ও কাঁচা মাছ-মাংস একই সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর উপায়ে ফ্রিজে জমানোর দায়ে এই রেস্টুরেন্টের মালিককে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

ফল ব্যবসায়ীদের কড়া সতর্কবার্তা
রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি দেওয়ানহাট মোড়ের বিভিন্ন ফলের দোকানেও একযোগে তদারকি অভিযান চালানো হয়। মৌসুমি ও নিত্যদিনের ফলগুলো সাধারণ মানুষ যেন কেমিক্যাল মুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পান, সে বিষয়ে বিক্রেতাদের সতর্ক ও সচেতন করা হয়।

চট্টগ্রাম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, খাদ্যে ক্ষতিকর কেমিক্যাল বা রং মেশানো এবং বাসি-পচা খাবার বিক্রি করা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের ওপর আঘাত।

এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের নজরদারি কঠোর থেকে কঠোরতর হবে। ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হচ্ছে, তবে অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি