১৬টি দীর্ঘ বছরের নীরব হাহাকার আর ২১ মাসের অবিরাম সংগ্রাম-অধিকার আদায়ের এই লড়াই এবার রূপ নিল সুর, ছন্দ আর আবৃত্তির প্রতিবাদী ক্যানভাসে।
গ্রামীণফোনের বঞ্চিত সাবেক কর্মী ও তাদের পরিবার নিজেদের ন্যায্য ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায়ের দাবিতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আয়োজন করল এক অভূতপূর্ব সাংস্কৃতিক আন্দোলন, যার নাম ‘পথে পথে প্রতিবাদ’।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর রাজপথ মাতিয়ে তোলেন আন্দোলনকারীরা। নির্দিষ্ট কোনো চারদেয়ালে বন্দি না থেকে, একটি ভ্রাম্যমাণ বাহনে ভর করে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে এই স্লোগান ও সুরের লহরি।
গ্রামীণফোনের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই বহর নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বিভিন্ন গ্রামীণফোন সেন্টারের সামনে থেমে থেমে তাদের মনের ক্ষোভ ও দাবির কথা তুলে ধরে।
আন্দোলনের আমেজ ছিল একেবারেই ভিন্ন। শিল্পীদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় লোকজ বাউল গান, আর আবৃত্তির ছন্দে সাধারণ পথচারীদের সামনে উন্মোচিত হয় দীর্ঘ ১৬ বছরের বঞ্চনার করুণ ইতিহাস।
বাউল শিল্পী মোজাহেরের গানের সুর ও জলদ গম্ভীর আবৃত্তি শুনে থমকে দাঁড়ান পথচলতি হাজারো মানুষ। সংহতি জানান অনেকেই।
‘গ্রামীণফোন ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জন সাবেক কর্মী এই বঞ্চনার শিকার।
অধিকার ফিরিয়ে পাওয়ার এই যুদ্ধে গত ২১ মাস ধরে তারা কাফনের কাপড় পরে প্রতীকী অবস্থান, দোয়া মাহফিল, বৃক্ষরোপণ, গণপাঠের মতো অজস্র শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
এমনকি দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি পৌঁছে দেয়া হয়েছে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়েও। কিন্তু এতকিছুর পরেও আজও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত সুরাহা।
কর্মসূচিতে সোলেমান মেহেদীর চমৎকার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন মো. রেজাউল করিম, মো. আরশাদ এবং আরিফুল ইসলাম আরিফ।
আন্দোলনকারী নেতারা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না। দীর্ঘ দিন ধরে অত্যন্ত ধৈর্য ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজেদের রক্ত পানি করা উপার্জনের অধিকারটুকু চেয়ে আসছি। আমরা আজও আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান চাই। তবে আমাদের দেয়া দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।
তারা সুস্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই এই ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া পরিশোধের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আগামীতে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়বে আরও বড় ও কঠোর রূপের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


