আমি সিআইডি অফিসার বলছি..-এক ফোনেই ফাঁকা হতো বিকাশ অ্যাকাউন্ট

অবশেষে পিবিআইয়ের জালে প্রতারণার মূলহোতা কবির

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৩১

ফোন ধরলেই ভেসে আসত গম্ভীর কণ্ঠ-আমি পুলিশ কর্মকর্তা বলছি, আপনার মামলার তদন্ত আমার হাতে। সাধারণ মানুষ ভেবেছিলেন, হয়তো এবার বিচার পাবেন। কিন্তু তারা বুঝতে পারেননি, ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিটি কোনো আইনি কর্মকর্তা নন, বরং আইনের ছদ্মবেশ পরা এক ধূর্ত প্রতারক!

পুলিশের নাম ভাঙিয়ে ও মিথ্যা আশ্বাসের মরীচিকা দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া সেই প্রতারক চক্রের মূলহোতাকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা।

গ্রেপ্তার হওয়া প্রতারকের নাম মো. মোজাম্মেল হক ওরফে কবির (৫০)। তিনি নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার গৌরীপুর এলাকার মৃত বেশারত উল্লাহর ছেলে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানাধীন গৌরীপুর এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

যেভাবে পাততে হতো প্রতারণার ফাঁদ:
পিবিআই সূত্র জানায়, এই চক্রটির মূল লক্ষ্য ছিল চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন আদালতে আইনি লড়াইয়ে থাকা অসহায় বিচারপ্রার্থীরা।

চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত কৌশলে চট্টগ্রামের আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বিভিন্ন মামলার বাদী ও অভিযোগের বিবরণ এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করত। এরপরই শুরু হতো আসল জালিয়াতি।

কখনও পিবিআই, কখনও সিআইডি, আবার কখনও ডিবি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেজে মামলার বাদীদের ফোন দিত মোজাম্মেল।

অত্যন্ত চতুরতার সাথে কথা বলে বাদীদের আস্থা অর্জন করত সে। এরপর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিজেদের পক্ষে তৈরি করে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ‘গাড়ি ভাড়া’ বা ‘তদন্ত খরচ’-এর বাহানায় বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত।

আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা ও পিবিআইয়ের বাজিমাত:
ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে আসামি ও তার চক্রটি অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম কার্ড (ভুয়া সিম) ব্যবহার করত। ফলে প্রাথমিকভাবে তাদের শনাক্ত করা কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছিল।

তবে জালিয়াতির বিষয়টি পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার নজরে আসার সাথে সাথেই পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) (নিরস্ত্র) মো. আবু সুফিয়ান বাদী হয়ে রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা রুজুর পর আর সময় নষ্ট করেনি পিবিআই। পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেনের দূরদর্শী নির্দেশনায় ও আধুনিক গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামির অবস্থান চিহ্নিত করা হয়।

এরপরই নোয়াখালীতে অভিযান চালিয়ে মূলহোতা মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আভিযানিক দল।

স্বীকারোক্তি ও পরবর্তী পদক্ষেপ:
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাসাবাদে আসামি মোজাম্মেল হক জালিয়াতি ও প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং তার সহযোগীদের সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

পিবিআই জানিয়েছে, ভুয়া পরিচয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এই অপরাধী চক্রের মূল উপড়ে ফেলতে এবং বাকি সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি