চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর, বন্দর ও পতেঙ্গা-এই তিন বাণিজ্যিক এলাকা জুড়েই গড়ে উঠেছিল এক অলিখিত আতঙ্কের সাম্রাজ্য।
যেখানে আড়ালে থেকে সুতা টানতেন নিজেকে পুলিশের ‘সোর্স’ ও কথিত ডিবির ‘ক্যাশিয়ার’ দাবি করা আজগর নামে এক ব্যক্তি।
প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।
তবে শেষ রক্ষা হয়নি, গোয়েন্দাদের চোখ এড়িয়ে যাওয়া সেই আজগর শেষমেশ ধরা পড়েছেন আসল ডিবির কাছেই।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর হালিশহরের ব্যস্ততম বড়পুল মোড় এলাকা থেকে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে আজগরকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পশ্চিম বিভাগের একটি চৌকস দল।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আজগর নিজের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। বন্দর ও পতেঙ্গার মতো স্পর্শকাতর এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে সরাসরি ও আড়ালে ব্যবহার করে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি করতেন তিনি।
পুলিশ এবং ডিবির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে অসাধু ফায়দা লোটা এবং ভীতি প্রদর্শন করা ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। নিজেকে ডিবির ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় সাধারণ মানুষ আইনি ঝামেলায় পড়ার ভয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি।
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে ডিবি পশ্চিম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) কাজী আব্দুর রহিম জানান, বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ও লোকবল ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আজগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আজগরকে বর্তমানে ডিবি কার্যালয়ে রেখে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই অপকর্মের সাথে অন্য কারও ইন্ধন বা যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম নগরে আজগরের মতো ভুয়া পরিচয়ধারীদের গ্রেপ্তারে ডিবি পুলিশের এই তাৎক্ষণিক অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকেরা।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


