ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি বাসযোগ্য ও জলবায়ু-সহিষ্ণু পৃথিবী উপহার দিতে চট্টগ্রাম জেলা জুড়ে শুরু হতে যাচ্ছে এক অভূতপূর্ব পরিবেশগত বিপ্লব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’র ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আগামীকাল ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) চট্টগ্রাম জেলায় একদিনেই রোপণ করা হবে ১ লক্ষ বৃক্ষ।
আজ ২৬ অক্টোবর (সোমবার) বিকেলে চট্টগ্রাম ডিসি পার্কে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এই ঐতিহাসিক কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
প্রেস কনফারেন্সে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হুছাইন মুহাম্মদ, সীতাকুন্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বি এবং স্টাফ অফিসার টু ডিসি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসিফ জাহান সিকদার উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক জানান, মঙ্গলবার ১ লক্ষ বৃক্ষরোপণের এই বিশালাকার কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইসমাইল জবিউল্লাহ।
নগরীর ঐতিহ্যবাহী জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে কর্মসূচি শুরু হয়ে জলবায়ু সহিষ্ণু ডিসি পার্ককে সম্পূর্ণ সবুজ করে তোলার লক্ষ্যে শেষ বা ১ লক্ষতম গাছটি রোপণ করা হবে সরাসরি উপদেষ্টার নিজের হাত দিয়ে।
প্রথম চারাটি রোপণের সাথে সাথেই এই পরিবেশ রক্ষামূলক মহা-আন্দোলনে মাঠে নামবেন জেলার প্রায় ১৫ হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, মিডিয়া কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবী।
এই মহতী উদ্যোগের অনন্য দিক তুলে ধরে ডিসি জাহিদ বলেন, সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় ব্যতিরেকে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও জিওসি বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৪০ লক্ষ বৃক্ষ অনুদান হিসেবে প্রদান করেছেন।
এনজিও, বন বিভাগ, উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এসব চারা সংগ্রহ করা হয়েছে।
গত রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে এই চারা বিতরণ কার্যক্রম। নারিকেলের চারাসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ ইতোমধ্যেই সিএমপি কমিশনার, পুলিশ সুপার, র্যাব, ডিজিএফআই, বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম বন্দর, সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর, স্টেডিয়াম ও এতিমখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১ লক্ষ চারা রোপণের জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ৮৬ হাজার গর্ত খনন সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকিগুলোর কাজ আজ বিকেলেই শেষ হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী পরিবেশ বিপর্যয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, শিল্প বিপ্লবের পর মানুষের অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডের ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বিগত ৫০ বছরে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য বিরাট হুমকি।
তিনি ইউরোপের উদাহরণ টেনে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপের লন্ডনের মতো শহরেও অতিরিক্ত তাপমাত্রায় প্রায় ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
যেসব দেশে আগে এসি বা ফ্যানের প্রয়োজন হতো না, সেখানেও এখন তা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বৃক্ষরোপণ কেবল একটি কর্মসূচি নয়, এটি আমাদের এবং আগামী প্রজন্মের টিকে থাকার লড়াই।
গাছ লাগানোর পর তা বাঁচিয়ে রাখার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী যে কঠোর বার্তা দিয়েছেন, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডিসি বলেন, আমরা শুধু গাছ লাগিয়ে ক্ষান্ত হবো না; প্রতিটি গাছের সুরক্ষায় বেড়া (ফেন্সিং) দেওয়া ও বিভিন্ন পর্যায়ে দেখভাল কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক এবং গ্রাম পুলিশদের এই তদারকিতে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
রোপণকৃত কোনো গাছ নষ্ট বা মারা গেলে তা তাৎক্ষণিক প্রতিস্থাপনের জন্য ১০ থেকে ২০ হাজার অতিরিক্ত চারা মজুদ রাখা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দিচ্ছে বন বিভাগ। সেই সাথে মাটির গুণাগুণ রক্ষায় ব্লগ হিট নির্দেশনাসহ চট্টগ্রামের প্রকৃতিকে একটি সুন্দর ও আধুনিক সবুজ রূপ দিতে জেলা প্রশাসন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


