২৭টি ডিলে ৬৩ কোটি টাকা আত্মসাত: জাবেদ-রুকমীলাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

‘ক্লাসিক ট্রেডিং’ নামের সাইনবোর্ড সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান আর ভুয়া ইনভয়েস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩৩

ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রাম জুবলী রোড শাখা থেকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি মোকাররম হোসেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি ‘আরামিট সিমেন্ট লিমিটেড’ এর নামে ইসলামী ব্যাংকের নগরের বহদ্দারহাট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ১৫ মে হিসাবটি জুবলী রোড শাখায় স্থানান্তর করা হয়।

ওই বছরের ১৫ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান ৫০০ কোটি টাকা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণের আবেদন করেন। পরবর্তীতে ব্যাংকের ক্রেডিট কমিটির সুপারিশে ৩৫০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, ঋণের অর্থ ছাড়ের জন্য ‘ক্লাসিক ট্রেডিং’ নামের একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হিসেবে আরামিট গ্রুপের হিসাব বিভাগের এজিএম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের নাম দেখানো হলেও, দুদকের অনুসন্ধানে ওই ঠিকানায় প্রতিষ্ঠানটির কোনো কার্যালয়, গুদাম বা ওয়্যারহাউসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ক্লিংকার, জিপসাম, লাইমস্টোন ও স্ল্যাগসহ বিভিন্ন কাঁচামাল সরবরাহের কথা উল্লেখ করে ভুয়া ইনভয়েস ও জাল কাগজপত্র ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।

বাস্তবে কোনো পণ্য সরবরাহ না করেই এসব নথির ভিত্তিতে ২৭টি বাই-মুরাবাহা ডিলের বিপরীতে পে-অর্ডার ইস্যু করা হয়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, এসব পে-অর্ডারের অর্থ প্রথমে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) স্টেশন রোড শাখায় ‘ক্লাসিক ট্রেডিং’ এর হিসাবে জমা করা হয়।

পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ঘুরে ওই অর্থের একটি অংশ আরামিট সিমেন্টের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ২৭টি ডিলের মাধ্যমে মোট ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও আরামিট গ্রুপের মালিক সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তার স্ত্রী রুকমীলা জামান ছাড়াও আরামিট সিমেন্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম, এজিএম একেএম মারুফ, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি