back to top

আদালত ঘোষিত ফেরারি আসামি প্রার্থী হতে পারবে না

প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর, ২০২৫ ১৪:২২

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অধ্যাদেশে একগুচ্ছ বড় ধরনের সংশোধনী আনা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (০২ নভেম্বর) জারি করা এই অধ্যাদেশে একাধিক নতুন বিধান যোগ হয়েছে, এর মধ্যে সবচেয়ে

আলোচিত বিষয় হলো- কোনো প্রার্থী পছন্দ না হলে ভোটারদের জন্য ‘না’ ভোটের সুযোগ রাখা হয়েচে। এছাড়া আদালত ঘোষিত পলাতক বা ফেরারি আসামিরা সংসদ সদস্য পদে দাঁড়াতে পারবেন না।

আরপিওতে যুক্ত হওয়া প্রধান পরিবর্তন ও নতুন বিধানসমূহ:

‘না’ ভোট প্রবর্তন: কোনো আসনে যদি মাত্র একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকেন, সেক্ষেত্রে ব্যালট পেপারে ওই প্রার্থীর পাশাপাশি ‘না’ ভোট দেওয়ার বিধান যুক্ত হয়েছে (অনুচ্ছেদ-১৯)। তবে দ্বিতীয়বার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।

পলাতক আসামি অযোগ্য: আদালত কর্তৃক ঘোষিত ফেরারি বা পলাতক আসামি সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন। ফলে পলাতক ব্যক্তিরা আর প্রার্থী হতে পারবেন না (অনুচ্ছেদ-১২)।

সশস্ত্র বাহিনী ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় দীর্ঘ দেড় দশক পর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর নাম যুক্ত করা হয়েছে (অনুচ্ছেদ-২)।

জামানত বৃদ্ধি: সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে (অনুচ্ছেদ-১৩)।

একই প্রতীকে ভোট: নিবন্ধিত একাধিক রাজনৈতিক দল জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও প্রার্থীকে নিজ দলের প্রতীক বা মার্কায় ভোট করতে হবে (অনুচ্ছেদ-২০)।

অনিয়মে ফল বাতিল: কোনো কেন্দ্রে অনিয়মের জন্য ভোট বাতিলের পাশাপাশি, প্রয়োজনে পুরো নির্বাচনি এলাকার ফল বাতিলের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে (অনুচ্ছেদ-৯১)।

সমভোটের নিষ্পত্তি: সমভোট প্রাপ্ত প্রার্থীদের লটারির মাধ্যমে নির্বাচনের পুরোনো বিধান বাতিল করে, এখন পুনঃভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হবে (অনুচ্ছেদ-৩৮)।

এআইয়ের অপব্যবহার অপরাধ: মিথ্যা তথ্য, অপতথ্য, গুজব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারকে নির্বাচনি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে (অনুচ্ছেদ-৭৩)।

হলফনামায় অসত্য তথ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে নির্বাচিত হওয়ার পরেও ইসির ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা যুক্ত করা হয়েছে।

পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসী, নির্বাচনি এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী এবং কারাগারে থাকা ব্যক্তিরা আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন (অনুচ্ছেদ-২৭)।

আচরণবিধি লঙ্ঘনে জরিমানা: দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।