চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন নিউজ : বন্দরের চাঁদাবাজি নিয়ে দেয়া বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা শাহাদাত হোসেন ও নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেনের মধ্যে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম বোট ক্লাবে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি দুইজনের মধ্যে সৃষ্ট এ ভুল বোঝাবুঝি স্পষ্ট করে দেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহণ উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রথমত আমি বলেছি, অতীতে চট্টগ্রাম বন্দরে চাঁদাবাজি হয়েছে। আমি অতীত কথাটা বলেছি। দুঃখজনকভাবে আমাদের সাংবাদিক ভাইদের কয়েকজন অতীত বাদ দিয়ে এই কথাটা বলেছেন। আমি বর্তমান মেয়র সম্পর্কে কোনো কথা বলিনি। ডা. শাহাদাত অত্যন্ত ভালো মানুষ, আমি উনাকে অনেকদিন ধরে চিনি, উনি আমার অত্যন্ত ক্লোজ মানুষ। উনি পলিটিক্স করেন। অনেকসময় পলিটিশিয়ানরা পুরো কথা না শুনেই বক্তব্য দেন। উনার সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কালকে রাতেও উনি আমাকে ফোন করেছেন। উনি নিজেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এরপর উনি উনার ট্যাক্সের বিষয়ে কথা বলেছেন, আমি বলেছি-আমি বিষয়টা দেখব। উনার সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমি উনার কনস্টিটিউয়েন্সির লোকও না।’
চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে অনড় অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘অতীত আপনারা ভালো করে জানেন, আমাকে বারবার বলতে হবে না। চট্টগ্রাম বন্দরের আশপাশে মাফিয়াচক্র আছে। খুব ডিফিকাল্ট রে ভাই, এটা ‘শেষ করা’ অত সহজ না, আপনারা যেভাবে মনে করেন। এই বন্দরে যে কী ধরনের মাফিয়াচক্র কাজ করে, আপনারা ভালো করে জানেন। আজ বন্দরে এত উন্নতি হয়েছে কেন, এটা অতীতে করতে পারেনি কেন? এই বন্দর তো নতুন করে গড়ে তোলা হয়নি। আর যখনই কোনো কথা বলা হয়, তখন কারও স্বার্থের মধ্যে আঘাত লাগে। আমি অতীত স্বার্থের কথা বলেছি। আমি এ দেশের লোক, বাইরে থেকে আসিনি। নতুন করে আমাকে কিছু করতে হবে না।‘’
‘আমি বলেছি অলমোস্ট সবাই জানে, প্রতিদিন এখানে কত টাকার চাঁদাবাজি হয়। সেটা কে নেয়, কে না নেয় সেটা আমি জানি না। অতীতে স্পন্সরড চাঁদাবাজি হয়েছে বন্দরে। বাংলাদেশে কি চাঁদাবাজি হচ্ছে না? চাঁদাবাজি তো বন্ধ হয়নি, কিন্তু স্কেল কমেছে। আগে সবাই মিলে করত, এখন ইন্ডিভিজ্যুয়ালি করি। আমি নিজে দাঁড়িয়ে দেখেছি, ট্রাক যারা ঢোকায় তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। এটা শুধু বাইরের লোক করছে তা নয়, ভেতরের লোকও করছে।’
উল্লেখ্য , গত ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে নৌপরিবহণ উপদেষ্টা চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয় বলে অভিযোগ করেন, যদিও টাকার পরিমাণটি তিনি অনুমানের ভিত্তিতে বলেছেন বলে জানান। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক-বর্তমান কোনো মেয়রের নাম উল্লেখ না করে তিনি ‘মেয়র কম, বন্দররক্ষক বেশি’ এমন মন্তব্যও করে তাদেরও জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেন, যা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ বক্তব্যের পর চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মেয়রের নাম প্রকাশের দাবি জানিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি নৌপরিবহণ উপদেষ্টাকে চট্টগ্রামে ঢুকতে দেবেন না, এমন মন্তব্যও করেছিলেন।
ইউডি


