back to top

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৫২

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র‌্যাবের অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। এতে র‌্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত র‌্যাব কর্মকর্তা হলেন- ডিএডি মো. মোতালেব। তিনি বিজিবি সদস্য। র‌্যাব-৭-এ কর্মরত ছিলেন তিনি।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, র‌্যাব সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযানে যান। এসময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে কয়েকজন র‌্যাব সদস্য আহত হন। তাদের মধ্যে একজন নিহত হয়েছেন।

সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‌্যাব সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে র‌্যাব ৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এআরএম মোজাফ্ফর হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন র‌্যাব সদস্য।

আহত তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে র‍্যাবের অতিরিক্ত ফোর্স ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করছেন বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় গত চার দশক ধরে পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এই দখলদারিত্ব ও প্লট বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সেখানে গড়ে উঠেছে একটি দুর্ধর্ষ সশস্ত্র বাহিনী।

জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুরে বসবাসকারীদের জন্য রয়েছে বিশেষ পরিচয়পত্র ব্যবস্থা। বহিরাগতদের প্রবেশ তো দূরের কথা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সেখানে সহজে প্রবেশ করতে পারেন না।

একাধিকবার অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীকে সংঘবদ্ধ ও সশস্ত্র হামলার মুখে পড়তে হয়েছে।

এই অপরাধ সাম্রাজ্যের নেপথ্যে রয়েছে দুটি শক্তিশালী সংগঠন। এর একটি হলো ‘আলীনগর বহুমুখী সমিতি’, যার নেতৃত্বে রয়েছেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া।

অপরটি ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’, যা নিয়ন্ত্রণ করছেন কাজী মশিউর ও গাজী সাদেক।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে এই দুই সংগঠনের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার।

দখল করা পাহাড়ি জমিতে বসতি স্থাপন, প্লট বাণিজ্য এবং অবৈধ স্থাপনা রক্ষায় সংগঠিতভাবে তারা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দুই পক্ষের প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না।