back to top

চট্টগ্রামে ভোটার বাড়লেও ভোটকেন্দ্র কমেছে ৫৮টি

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৭:৫৩

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ভোটারের সংখ্যা আগের নির্বাচনের চেয়ে ১ লাখ বেড়েছে। সে তুলনায় ভোটকেন্দ্র না বেড়ে উল্টো কমেছে। সব আসন মিলিয়ে ভোটকেন্দ্র কমেছে ৫৮টি।

কমেছে ভোট কেন্দ্র:
আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা গেছে, গেল ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২ হাজার ২৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন।

দুই বছর পর হতে যাওয়া আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। সেক্ষেত্রে এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র কমেছে ৫৮টি।

১৬টি আসনের মধ্যে ৯টিতে ভোটকেন্দ্র কমেছে, ১টিতে বেড়েছে। আর ৬টিতে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে।

এবার সবচেয়ে বেশি ২১টি ভোটকেন্দ্র কমেছে চট্টগ্রাম-৯ আসনে। গতবার ভোটকেন্দ্র ছিল ১৪২টি, এবার কেন্দ্র রাখা হয়েছে ১২১টি।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ১১টি, চট্টগ্রাম-১০ ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে ৯টি করে ভোটকেন্দ্র কমেছে।

এছাড়াও চট্টগ্রাম-৮ আসনে ৫টি, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ বোস্তামী) আসনে ৩টি, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনে ২টি করে, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ১টি করে কেন্দ্র কমেছে।

বেড়েছে ভোটার:
তবে ভোটকেন্দ্র কমলেও ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে। দুই বছরের ব্যবধানে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২০০ ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়।

সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে চট্টগ্রাম জেলা ও নগর মিলিয়ে মোট ভোটার দাঁড়িয়েছে ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জনে। দুই বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৩১৭। অর্থাৎ ভোটার বেড়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২০০ জন।

নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগর ও জেলা মিলিয়ে ১৬টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার বেড়েছে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে।

এই আসনে বর্তমানে ভোটার ৫ লাখ ৬ হাজার ৫৯ জন। গতবার ছিলেন ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৪১১ জন, অর্থাৎ ভোট বেড়েছে ৪৭ হাজার ৬৪৮টি।

এছাড়া চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে ৬ হাজার ৭৮৭ ও চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-পাহাড়তলী-খুলশী) আসনে ৬ হাজার ৬৪১ ভোটার বেড়েছে।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে ৩৯ হাজার ১৫৬ ভোটার বৃদ্ধি পেয়ে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯–এ।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে ভোটার বেড়েছে ৪০ হাজার ৪৯৯ জন। এই আসনে বর্তমান ভোটার ৪ লাখ ১১ হাজার ২৭৪ জন।

এদিকে ১৬ আসনের মধ্যে ১৫ টিতে ভোটার বাড়লেও একটি আসনে ভোটার কমেছে। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-ইপিজেড-পতেঙ্গা) আসনে ভোটার কমেছে ৬ হাজার ৫৭৪ জন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় বলছে, ভোটার স্থানান্তরই এর অন্যতম কারণ হতে পারে। শিল্পাঞ্চল ও বন্দরকেন্দ্রিক এই আসনে কর্মসংস্থানের ধরন বদলানোয় অনেক ভোটার অন্য এলাকায় তালিকাভুক্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভোটকেন্দ্র কমানোর পেছনে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনকেই প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরছে নির্বাচন কমিশন।

ভোটার কমে যাওয়ার প্রসঙ্গে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, গতবার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হয়েছিল।

ইভিএমে ভোট নিতে হলে কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি লাগে। কিন্তু এবার ভোট গ্রহণ হবে কাগজের ব্যালটে। তাই কেন্দ্রের সংখ্যা কমেছে।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগর ও জেলা মিলিয়ে ১৬টি আসন রয়েছে। এসব আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৩১৭ জন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার আছেন ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৭ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬০ জন। ভোটারদের মধ্যে হিজড়া আছেন ৭০ জন।

এবার দেশের বাইরে থাকা প্রবাসীরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মোট পোস্টাল ব্যালটে ভোটার আছেন ৯৪ হাজার ৯৪১ জন।

নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুতি:
এদিকে নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। বর্তমানে ভোট গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

নগর ও উপজেলা আসনগুলোর জন্য পৃথকভাবে প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন। ব্যালট ছাড়া অন্যান্য নির্বাচনী সরঞ্জাম উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার সংখ্যা প্রায় ৪৩ হাজার। নির্বাচনে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে থাকবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তা। নির্বাচনে ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।

প্রতি ভোটকেন্দ্রে একজন করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা থাকবেন। আর ভোটকক্ষ আছে ১২ হাজার ৬০১টি।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, এই নির্বাচন প্রশাসনের জন্য একটি দায়িত্ব ও বিশ্বাসের পরীক্ষা। আইন মেনে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে হবে।