নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার আহ্বান জানালেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রামে ইউপি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬ ১৫:০৩

নিজের জীবনমানের উন্নয়ন নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য কী অবদান রাখা গেল—সেটিই একজন চাকরিজীবীর সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

রোববার চট্টগ্রাম প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের জন্য আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘অফিস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের (এনআইএলজি) আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের ১৬০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষ একটি সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র চায়, তবে নিজের পরিবর্তনের বিষয়ে অনেকেই অনাগ্রহী থাকেন।

তিনি বলেন, “আমি চাই অন্যরা পরিবর্তন হোক, কিন্তু নিজের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন চাই না—এই সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেখা একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কাজে প্রয়োগ না করলে তার কোনো মূল্য নেই।

সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি ও সেবার মানদণ্ড পরিবর্তিত হচ্ছে—এ পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারি সেবাকেও সমন্বয় করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চাকরি জীবনে কে কী পেল, ব্যক্তিগতভাবে কত উন্নতি হলো কিংবা সন্তান কোথায় পড়াশোনা করল—এসবের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, “আমি রাষ্ট্রকে কী দিলাম।” জনগণের করের টাকায় বেতন নিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য কী অবদান রাখা গেল, সেটিই প্রতিটি কর্মচারীর ভেবে দেখা উচিত।

জেলা প্রশাসক সতর্ক করে বলেন, সরকারি চাকরি শুধু একটি পদ নয়, এটি জনগণের প্রতি অঙ্গীকার। সেবাগ্রহীতারা যেন কোনো দপ্তরে গিয়ে হয়রানি বা অবহেলার শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি বলেন, “আজ আপনি যে চেয়ারে বসে সেবা দিচ্ছেন, খুব বেশি দিন পর আপনাকেও সেবাগ্রহীতার আসনে বসতে হবে। তখন আপনি কেমন আচরণ প্রত্যাশা করবেন, সেটি মাথায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি দপ্তর থেকে সন্তুষ্টি নিয়ে বের হন—এমন মানুষের সংখ্যা এখনো কম। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার চর্চা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

ডিসি মিঞা আরও বলেন, মানুষ পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার আসার সুযোগ পায় না। তাই কর্মজীবন শেষে যেন আফসোস না থাকে, সে জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক অবদান রেখে যাওয়াই প্রকৃত সার্থকতা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করে ইউনিয়ন পরিষদের সেবার মান উন্নয়নের আহ্বান জানান।

প্রশিক্ষণ কোর্সের সমন্বয়ক হিসেবে সূচনা বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আমিরুল মোস্তফা।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা রহমান মীম। ডিআরটি প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী।

আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত চলা এই তিন দিনের প্রশিক্ষণে অফিস ব্যবস্থাপনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, হিসাব সংরক্ষণ, নিরীক্ষা পদ্ধতি, পিপিআর, পিপিএ এবং তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি