নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা/চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে টাকা দিলেই চলে বাইক!

আনসার সদস্যের অর্থ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল!

প্রকাশিত: ০২ জুলাই, ২০২৬ ২২:৪৩

চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ। নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে অনেক আগেই। তবে বাস্তব চিত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিতই মোটরসাইকেল এই এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচল করছে। আর এবার সেই অভিযোগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও।

ভিডিওটি ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। সেখানে দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্যকে এক মোটরসাইকেল আরোহীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।

কথোপকথনের একপর্যায়ে টাকা লেনদেনের মতো একটি দৃশ্যও রয়েছে দাবি করছেন অনেকেই।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ওঠে, নিষিদ্ধ মোটরসাইকেলকে এক্সপ্রেসওয়েতে প্রবেশের সুযোগ করে দিতেই অর্থ নেওয়া হচ্ছে।

তবে ভিডিওটির সত্যতা কিংবা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।

দীর্ঘদিনের অভিযোগ, নতুন করে সামনে ভিডিও

চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে প্রায়ই সেই নিয়ম লঙ্ঘিত হচ্ছে। বিভিন্ন সময় মোটরসাইকেলকে এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচল করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, যদি নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবেই বলবৎ থাকে, তাহলে নিয়মিত মোটরসাইকেল কীভাবে সেখানে প্রবেশ করছে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। ভাইরাল ভিডিওটি সেই পুরোনো প্রশ্নকেই আরও জোরালো করেছে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা। অনেকে অভিযোগ করেন, দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের একটি অংশ অর্থের বিনিময়ে মোটরসাইকেল প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছেন।

আবার অনেকে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কেবল একটি ভিডিওর ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

ভিডিওটি নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন অনেক ব্যবহারকারী।

স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি শুধু নিয়ম ভঙ্গের নয়, এটি সড়ক নিরাপত্তারও প্রশ্ন। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নকশা ও চলাচল ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মোটরসাইকেল চলাচল অব্যাহত থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে আরও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আনসার কর্তৃপক্ষ, এক্সপ্রেসওয়ে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।

তবে এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা ঘটনাটি তদন্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা।

কারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ভিডিওই আনুষ্ঠানিক তদন্তের বিকল্প নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তেই স্পষ্ট হবে অভিযোগের ভিত্তি কতটা সত্য এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কী হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি