পানছড়িতে শান্ত পাহাড় আবার অশান্ত: আধিপত্যের লড়াইয়ে ঝরল আরও ৩ প্রাণ

প্রকাশিত: ০৬ জুলাই, ২০২৬ ১৫:২৬

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আঞ্চলিক দুই সংগঠনের ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে আবারও রক্তে রঞ্জিত হলো পাহাড়ের মাটি। 

আজ সোমবার দুপুরে পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের দুর্গম মধুমঙ্গলপাড়ায় আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসীত) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে এই ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ঝরে গেল তিনটি তাজা প্রাণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরেই এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

আজ দুপুরে হঠাৎ করেই মধুমঙ্গলপাড়া এলাকাটি কেঁপে ওঠে মুহুর্মুহু গুলির শব্দে।

সাধারণ মানুষ যখন নিজেদের দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত, ঠিক তখনই দুই পক্ষের সশস্ত্র সদস্যরা মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বেশ কিছু সময় ধরে চলা এই বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থলেই তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “দুপুরে মধুমঙ্গলপাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমরা তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।”

তবে নিহতদের নাম বা বিস্তারিত পরিচয় এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন।

ওসির ভাষ্যমতে, “এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় লাশ উদ্ধারের পর এবং তদন্ত সাপেক্ষে নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা সম্ভব হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।”

এদিকে, শান্ত পাহাড়কে অশান্ত করে তোলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে পুরো পানছড়ি এলাকায়। সাধারণ মানুষের মনে ভর করেছে নতুন আতঙ্ক।

তবে এই গোলাগুলি এবং প্রাণহানির ঘটনার পর এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জেএসএস কিংবা ইউপিডিএফ-এর কোনো নেতার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পাহাড়ে শান্তির খোঁজে যেখানে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত স্বপ্ন বোনে, সেখানে বারবার এমন অস্ত্রের গর্জন আর লাশের মিছিল সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলছে।

এই ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতের শেষ কোথায়? এখন এটাই খাগড়াছড়ির সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি