টানা ভারী বর্ষণে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। আর সেই বৃষ্টির তোড়েই ধসে পড়েছে পাহাড়ের মাটি, কেড়ে নিয়েছে তাজা প্রাণ।
পাহাড়ধসের এই নির্মম ট্র্যাজেডির পর আবারও সামনে এসেছে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়ের পাদদেশের বাসিন্দাদের ভাগ্যলিপি।
এই প্রেক্ষাপটে নগরবাসীকে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ ঢাল ও পাদদেশ ছেড়ে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আকুল আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
নগরীর চশমা হিল এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বাড়িতে যান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সেখানে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ।
স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস।
মেয়র শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের বুকে টেনে নেন, গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
সেখান থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মেয়রের কণ্ঠে ঝরে পড়ে গভীর উদ্বেগ ও আকুতি। তিনি বলেন, “বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বারবার মাইকিং করেছে, সরাসরি অনুরোধ করেছে।
কিন্তু এরপরও অনেকেই জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে অবস্থান করছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও আশঙ্কাজনক।“
পাহাড়ের বুকে এই মৃত্যুকূপের অবসান চান মেয়র। আবেগমথিত কণ্ঠে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন,“একটি প্রাণও অমূল্য। সাময়িক কষ্ট হলেও সবাইকে নিজেদের এবং পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্তেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে।
কোনো অবস্থাতেই মৃত্যুর এই ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের নিচে বসবাস করা সমীচীন নয়।”
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েকদিন চট্টগ্রামে বৃষ্টির তীব্রতা কমার লক্ষণ নেই। এ কারণে আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত পাহাড়ের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মেয়র।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, চসিক প্রশাসন সব সময় তাদের পাশে রয়েছে এবং যেকোনো দুর্যোগে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
নগরবাসীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে মেয়র বলেন, “প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন, কোনো ধরনের গুজবে কান দেবেন না।
পাহাড়ধসের সামান্যতম আশঙ্কা দেখা দিলেই দ্রুত নিরাপদ স্থানে বা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান। মনে রাখবেন, আপনার সচেতনতা ও সতর্কতাই পারে একটি মূল্যবান প্রাণ রক্ষা করতে।”
একই সঙ্গে পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করতে এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন চসিক মেয়র।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

