বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এক গর্বোজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক মুহূর্তে যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়।
চার দশকের দীর্ঘ সামরিক জীবন, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং অতুলনীয় পেশাদারিত্বের পথ পেরিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর কিন্তু আভিজাত্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁকে এই নতুন পদের র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম. নাজমুল হাসান যৌথভাবে নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
[ র্যাঙ্ক ব্যাজ প্রদান অনুষ্ঠান ]
│
┌────────────────┴────────────────┐
▼ ▼
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিদায়ী নৌপ্রধান
তারেক রহমান অ্যাডমিরাল এম. নাজমুল হাসান
│ │
└────────────────┬────────────────┘
▼
ভাইস অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার ব্যাজ
│
▼
নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান
ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম
র্যাঙ্ক ব্যাজ পরানোর পর প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান এবং তাঁর আগামীর দিনগুলোর জন্য শুভকামনা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এই বিশেষ মুহূর্তটির সাক্ষী হতে সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন।
১৯৮৭ থেকে আজ: চার দশকের এক বর্ণাঢ্য সামরিক অভিযাত্রা
১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করে ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।
এর পরপরই তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।
শুধু সামরিক রণকৌশলই নয়, শিক্ষাক্ষেত্রেও তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।
দেশ-বিদেশের উচ্চতর সামরিক শিক্ষার পাশাপাশি তিনি অর্জনে সামিল করেছেন মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি।
বহুমুখী প্রতিভার এক অনন্য নজির
খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম তাঁর চার দশকের কর্মজীবনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি শাখায় নিজের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডসমূহ: তিনি চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল ও ঢাকা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, সাবমেরিন কমান্ডার এবং মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা: নৌ সদর দফতরে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালক নৌ অপারেশনস এবং পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি একাধিক যুদ্ধজাহাজ ও নৌঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেছেন।
আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশন: জাতিসংঘের অধীনে লেবানন এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের কঠিন পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।
কূটনীতি ও মানবিক সেবা: তাঁর সাম্প্রতিকতম পরিচয় কেবল একজন সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন না, ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে যেমন নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তেমনই মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কল্যাণে কাজ করে লাভ করেছেন বিপুল মানুষের ভালোবাসা।
দীর্ঘ সামরিক জীবনে সততা, নিষ্ঠা ও অসামান্য পারদর্শিতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি লাভ করেছেন বহু সামরিক ও বেসামরিক সম্মাননা।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি) ও জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার।
একটি দক্ষ, আধুনিক ও শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের এই নতুন যাত্রা দেশের সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় এক নতুন গতির সঞ্চার করবে বলেই প্রত্যাশা সামরিক বিশেষজ্ঞ ও দেশবাসীর।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

