মেধা, সাহসিকতা আর দেশপ্রেমের এক বিরল মেলবন্ধন নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।
তিনি কেবল যুদ্ধজাহাজের দক্ষ চালকই নন, কূটনীতির টেবিলেও সমান পারদর্শী। আবার জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রেও তার ঝুলিতে রয়েছে ডক্টরেট ডিগ্রি।
গত বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গৌরবময় নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
আগামী ২৩ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভাইস অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভ করবেন এবং দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষার সর্বোচ্চ এই পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
নৌবাহিনীর বর্তমান প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
২০২৩ সালের ২৪ জুলাই থেকে অত্যন্ত সুনামের সাথে তিনি নৌবাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
তাঁর এই গৌরবময় অধ্যায়ের অবসানের পরেই শুরু হতে যাচ্ছে রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের নতুন নেতৃত্ব।
রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের পুরো জীবনটাই যেন মেধার এক বর্ণিল ক্যানভাস।
১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিজস্ব ব্যাচে (৮৭এ) জ্যেষ্ঠতা ও মেধা—উভয় তালিকাতেই তিনি প্রথম স্থান অর্জন করে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন।
তবে মেধার এই দ্যুতি শুধু নৌবাহিনীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে মিশে আছে সেরার তকমা।
বিদ্যালয় ও কলেজ জীবন: এসএসসি ও এইচএসসি-উভয় পরীক্ষাতেই সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি পদক: শিক্ষাজীবনে অসামান্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখায় তিনি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সম্মানজনক ‘চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন।
উচ্চশিক্ষা ও পিএইচডি: বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মেরিটাইম গভর্ন্যান্সের ওপর অর্জন করেছেন সম্মানজনক পিএইচডি ডিগ্রি।
একাডেমিক ডিগ্রি: বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ও মাস্টার্স ইন ডিফেন্স স্টাডিজ (এমডিএস) ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি ভারতের মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে এমএসসি এবং চীনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি থেকে স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে তাঁর তৃতীয় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
মিসবাহ উল আজীম শুধু জলসীমার প্রতিরক্ষাতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, দেশের হয়ে লড়েছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। বর্তমানে তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দেশের কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করছেন।
এছাড়া, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীল হেলমেট মাথায় দিয়ে তিনি লেবানন এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে শান্তিরক্ষী মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দীর্ঘ ও গৌরবময় কর্মজীবনে তিনি নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ বহু কমান্ড ও নেতৃস্থানীয় পদে সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার তাঁর কাঁধে ন্যস্ত হলো পুরো বাহিনীর হাল ধরার দায়িত্ব।
সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের মতোই দেশের জলসীমা রক্ষায় তিনি এক নির্ভীক ও প্রাজ্ঞ কাণ্ডারি হিসেবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন-এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

