লোহাগাড়া প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় চলাচলের সরকারি কিংবা ভোগদখলীয় পথ বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে একটি কৃষক পরিবারের ওপর প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
গত ২৯ আগস্ট দুপুরে উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়ারবিলা পূর্ব রাজঘাটা ফরেস্ট অফিস পাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন-ফরেস্ট অফিস পাড়া এলাকার আমিন শরীফের পুত্র পেশায় কৃষক মো. মহি উদ্দিন (৪০), তাঁর স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা (৩০) এবং তাঁদের ১৫ বছর বয়সী কিশোরী কন্যা জান্নাতুল মাওয়া।
স্থানীয় ও লোহাগাড়া থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিবাদীপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগী পরিবারের চলাচলের একমাত্র দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় রাস্তাটিতে অন্যায়ভাবে ঘেরাবেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছিল।
ঘটনাটি জানতে পেরে কৃষক মহি উদ্দিন সরেজমিনে গিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করার প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষ জসিম উদ্দিনসহ তাঁর সহযোগীরা মহি উদ্দিনের ওপর চড়াও হয় এবং বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উত্তেজনার চরম পর্যায়ে জসিম ও তার সঙ্গীরা ধারালো দা দিয়ে মহিউদ্দিনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
স্বামীর ওপর এমন বরোচিত হামলা ও আর্তচিৎকার শুনে স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বিবাদীরা তাঁকেও বেধড়ক মারধর করে। এমনকি তাঁদের ১৫ বছরের কিশোরী মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া বাবাকে রক্ষা করতে গেলে হামলাকারীরা তার ওপরও চড়াও হয় এবং মাথার চুল ধরে টানা-হেঁচড়া করে জখম করে।
পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত মহি উদ্দিনের মাথার আঘাত অতি গুরুতর হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আহত স্ত্রী ও মেয়েকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মহিউদ্দিনের অবস্থা উদ্বেগজনক।
এ ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত কৃষক মহিউদ্দিন বাদী হয়ে একই এলাকার মৃত আবদুর রহমানের পুত্র মোঃ জসিম উদ্দিন (৪২), জসিমের ছেলে মোঃ রাসেল (১৯), জসিমের স্ত্রী মাবিয়া, মৃত আকবর আলীর স্ত্রী জহুরা বেগম, আবদুল গফুরের ছেলে বাবুসহ ৬ জনকে বিবাদী করে লোহাগাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মহিউদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছিল। প্রতিবাদ করায় জসিম ও তার দলবল পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো দা নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। আমাকে রক্ষা করতে এলে আমার স্ত্রী ও অবুঝ মেয়েকেও তারা ছাড়েনি। আমি প্রশাসনের কাছে এ ন্যক্কারজনক হামলার সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।
অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান অভিযুক্ত মো. জসিম উদ্দিন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, জায়গা নিয়ে তাঁর বোন জহুরা বেগমের সাথে মহিউদ্দিনের ঝগড়া হচ্ছিল। বোনকে মারধর করা হচ্ছে শুনে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন মাত্র।
অপর অভিযুক্ত জহুরা বেগম জানান, তাঁর শসা ক্ষেত রয়েছে এবং প্রতিপক্ষরাই এসে তাঁর সাথে ঝগড়া শুরু করেছে। তিনি নারী ও সন্তানদের নিয়ে একা সংসার পরিচালনা করছেন বলে দাবি করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে লোহাগাড়া থানার সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) ইয়াছিন আরাফাত সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আলামত সংগ্রহ করেছেন।
মামলা ও তদন্তের বিষয়ে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করার জন্য এসআই ইয়াছিন আরাফাতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরজমিনে তদন্ত শেষে অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি/রায়হান

