চবিতে টেন্ডারবাজি ও দখলের অভিযোগ: ছাত্রদলের বিরুদ্ধে শিবিরের উত্তাল বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৬

ছাত্রলীগের পতনের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) যখন নতুন এক প্রশাসনিক ও শিক্ষা সংস্কৃতির দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ক্যাম্পাসে নতুন করে থাবা বসাতে চাইছে ‘দখলদারি ও টেন্ডারবাজির’ রাজনীতি-এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চবি প্রাঙ্গণ।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি ও ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের অভিযোগ এনে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত নামতেই ক্যাম্পাসের প্রাণকেন্দ্র জিরো পয়েন্টে জড়ো হতে থাকেন শিবিরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিলটি সোহরাওয়ার্দী হল, আলাওল হল এবং এ এফ রহমান হলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে নেতাকর্মীরা পুনরায় জিরো পয়েন্টে এসে এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু ঝাঁজালো সমাবেশে মিলিত হন।

সমাবেশে বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর চবিতে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ার কথা ছিল।

কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ক্যাম্পাসগুলোতে নিজেদের অনুগত ভিসি নিয়োগের মাধ্যমে প্রথম প্রশাসনিক দখলাভিযান শুরু হয়। আর এখন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রদল একের পর এক উন্নয়নমূলক কাজ থমকে দিচ্ছে।

তিনি আরও যোগ করেন, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং ‘চাকসু’ উন্নয়ন প্রকল্পের অচলাবস্থা কাটাতে বারবার ভিসির সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু কিসের বাধার কারণে ক্যাম্পাসের থমকে থাকা কাজগুলো গতি পাচ্ছে না, তা আজ ছাত্রদলের সেক্রেটারি নিজেই প্রকাশ করে দিয়েছেন।

প্রকৌশল দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে চরম বিস্ময় প্রকাশ করে শিবির সভাপতি অভিযোগ করেন, যে প্রকৌশল দপ্তরের সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার কথা, সেই দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী নিজেই ছাত্রদলের সেক্রেটারিকে ফোন করে কাজের আপডেট চান এবং বিনীতভাবে কাজ শুরুর অনুরোধ জানান! এটি একটি নজিরবিহীন ও বিস্ময়কর ঘটনা।

একটি সশ্রদ্ধ ও স্বাধীন দপ্তর একটি ছাত্রসংগঠনের কাছে কীভাবে জিম্মি ও অবরুদ্ধ হতে পারে, ছাত্রদল ও প্রশাসনের এই ফোনালাপই তার চূড়ান্ত প্রমাণ।

ভবিষ্যতের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, আমরা ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নয়ন চাই। তবে যারা এই চত্বরে পুরনো ঘৃণ্য রাজনীতির পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চায়, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য গড়তে চায়-তাদের পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই, ৫ আগস্টের রক্তের বিনিময়ে চবিতে যে চাঁদাবাজির কবর রচিত হয়েছে, তা নতুন করে জ্যান্ত করার চেষ্টা করবেন না। যদি করেন, তবে সদ্য বিতাড়িত ছাত্রলীগের যে পরিণতি হয়েছে, আপনাদেরও ঠিক একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।

রাতে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে এক ধরনের নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ছড়িয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি