আনন্দভ্রমণ রূপ নিল বিষাদে, সাতকানিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পিকনিক বাস

শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নিহত ২, হাসপাতালে ৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:১৬

ভোরের আলো ফুট তখনও কিছুটা বাকি। আনন্দ ও উচ্ছ্বাস নিয়ে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতের দিকে ছুটে চলছিল বুড়িচংয়ের একদল শিক্ষক-শিক্ষার্থী।

কিন্তু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এক নিমিষেই সেই আনন্দ রূপ নিল এক করুণ ট্র্যাজেডিতে।

আজ শনিবার ভোর চারটার দিকে সাতকানিয়ার কেরানীহাটের অদূরে রেলবিট এলাকা অতিক্রম করার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাসটি রাস্তার পাশের একটি গভীর পুকুরে পড়ে যায়। এতে দুজন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ‘বাকশিমুল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা’র শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিলেন।

তাঁরা মাদ্রাসার বার্ষিক শিক্ষাসফরে কক্সবাজারে যাচ্ছিলেন। একই বহরে থাকা অন্য একটি বাসের যাত্রীরা ঘটনার ভয়াবহতার বিবরণ দেন।

হাসপাতালে নেওয়ার পথে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাকশিমুল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষিকা সোহানা আফরোজ (৪৫) ও ইসরাফিল (৫৬)।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার শব্দ শুনে মুহূর্তের মধ্যেই এগিয়ে আসেন পার্শ্ববর্তী ইটভাটার শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। কনকনে ভোর তোয়াক্কা না করে তাঁরা পুকুরের পানি থেকে বাসের ভেতরের আতঙ্কিত যাত্রীদের উদ্ধার করতে নামেন।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় কেরানীহাট ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার নিশ্চিত করে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবসার জানান, ‘নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি মহাসড়কের পাশের পুকুরে পড়ে গেলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধারকাজ চালায় এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটি পুকুর থেকে তোলা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে একের পর এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের মতে, মহাসড়কটির ধারণক্ষমতার তুলনায় এটি অত্যন্ত সংকুচিত ও ঝুঁকিপূর্ণ।

তাঁরা অনতিবিলম্বে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি