সংকটাপন্ন ব্যাংকে কার ইন্ধন ও স্বার্থে আটকে আছে বিপিসির ৪,৮১৩ কোটি টাকা!

উদ্ধারে ৭ সদস্যের বিশেষ তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:৩০

সংকটাপন্ন বেসরকারি ব্যাংকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও এর আওতাধীন কোম্পানিগুলোর জমা রয়েছে ৪ হাজার ৮১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

বিপুল অঙ্কের এই অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগের পাশাপাশি এসব ব্যাংকে আমানত রাখার নেপথ্যের সিদ্ধান্ত, সুপারিশ ও সম্ভাব্য অনিয়ম খতিয়ে দেখতে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিপিসি।

গত ৩ নভেম্বর বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্তে শুধু আমানত রাখার প্রক্রিয়াই নয়, এর পেছনে কার সুপারিশ ছিল এবং কী উদ্দেশ্যে সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোতে বিপুল পরিমাণ অর্থ রাখা হয়েছিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।

অস্বাভাবিক উচ্চ সুদের প্রলোভন দেখিয়ে কমিশন বাণিজ্য, ঘুষ কিংবা ব্যক্তিস্বার্থে এসব আমানত রাখা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিপিসির পরিচালক (অর্থ) নাজনীন পারভীনকে। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন বিপিসির ব্যবস্থাপক (হিসাব) মো. আল-আমীন।

আমানতের নেপথ্যে কারা, খুঁজবে কমিটি

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বিপিসি ও এর আওতাধীন কোম্পানিগুলোর ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থ নগদায়নের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটি প্রথমে অনুসন্ধান করবে, কোন প্রক্রিয়ায়, কার সুপারিশে এবং কী উদ্দেশ্যে সংকটাপন্ন বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে এসব অর্থ জমা রাখা হয়েছিল।

এরপর আমানত রাখার ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বার্থ, ঘুষ কিংবা কোনো ধরনের অনৈতিক যোগাযোগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে।

বিশেষ করে অস্বাভাবিক উচ্চ সুদের প্রস্তাবের আড়ালে কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্য বা আর্থিক সুবিধা আদান-প্রদান হয়েছে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করবে কমিটি।

তদন্ত কমিটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো সংকটাপন্ন বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ফিক্সড ডিপোজিট রিসিটের (এফডিআর) বিপরীতে জমা থাকা ৪ হাজার ৮১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা নগদায়নের বিষয়ে সুপারিশ করা।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিপিসি ও এর আওতাধীন কোম্পানিগুলোর স্থায়ী আমানত সুরক্ষিত রাখতে ব্যাংক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও দিকনির্দেশনা দেবে কমিটি।

এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাংক বাছাইয়ের সুপারিশ করতে বলা হয়েছে।

বিপুল অঙ্কের সরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থ কেন সংকটাপন্ন ব্যাংকে রাখা হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য অনিয়মের দায় কার-এক মাসের তদন্তে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে বিপিসির এই কমিটি।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি