নুরাল পাগলার মাজারে হামলা: নতুন মামলায় ইমামসহ গ্রেপ্তার ২

ভাঙচুর মামলায় মোট গ্রেপ্তার ১৬

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৩:৩০

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার মাজারে হামলার ঘটনায় নিহত রাসেল মোল্লার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাতে তাঁর বাবা আজাদ মোল্লা বাদী হয়ে সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলাটি করেন।

ওই মামলায় পুলিশ গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে মসজিদের ইমামসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

তাঁরা হলেন গোয়ালন্দ পৌরসভার আলম চৌধুরীপাড়ার বিল্লাল মন্ডলের ছেলে অভি মন্ডল ওরফে রঞ্জু (২৯) ও মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড় ঠাকুরকান্দি গ্রামের মো. বাহাউদ্দীনের ছেলে আবদুল লতিফ (৩৫)। লতিফ গোয়ালন্দ পৌরসভার বায়তুল মোকাদ্দাস জামে মসজিদের ইমাম।

তাছাড়া পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, কবর থেকে লাশ উত্তোলন ও পোড়ানোর ঘটনায় করা মামলায় গতকাল রাতে নতুন করে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তাঁরা হলেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের গনি শিকদার পাড়ার মজিবর শেখের ছেলে আসলাম শেখ (২৮) ও গোয়ালন্দ পৌরসভার কাজী পাড়ার জয়নাল শেখের ছেলে শহিদুল ইসলাম ওরফে বুদ্দু (৪৫)।

ওই মামলায় মোট গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৬ জন। গত শুক্রবার রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলাটি করেন।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, নুরাল পাগলার মাজারে হামলার ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আজাদ মোল্লা (৫৫) সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম লতিফ হুজুর। তিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন। তাছাড়া গোয়ালন্দে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, মাজার ভাঙা, মারামারিতে আহত, নিহত, সম্পদ লুটপাট, কবর থেকে লাশ উত্তোলন ও পুড়িয়ে ফেলার অপরাধে সকাল পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নুরাল পাগলার দরবারে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা।

এ সময় নুরাল পাগলার ভক্তদের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিহত এবং দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয় ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেয় হামলাকারীরা।