মানুষ নিয়েই ছিল বাবার রাজনীতি , আমার কাজও মানুষকে নিয়ে – সাঈদ আল নোমান

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:১৩

চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাঈদ  আল নোমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি এবং আবদুল্লাহ আল নোমান- একে অপরের পরিপূরক। আমি তার সন্তান। মানুষ নিয়েই ছিল আমার বাবার কাজ। আমার কাজও মানুষকে নিয়েই। আবদুল্লাহ আল নোমান এবং তার সন্তান- আমরা সবসময় গণমানুষের সঙ্গেই ছিলাম, এখনও আছি, ভবিষ্যতেও থাকব।’

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর একটি রেস্তোঁরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাঈদ আল নোমান একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমারও কিন্তু কিছু কাজ আছে, আমি শুধু বাবার পুত্র নই। এতটুকু আপনারা অনেকেই জানেন। আপনাদের অনেকের সন্তান আমার প্রতিষ্ঠানে কাজও করে, পড়ালেখাও করে। আমার কিছু কাজ আছে, সেটাও আমার পরিচিতি বাবা এবং মায়ের বাইরে।’

সংসদে যেতে পারলে মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাবা-মায়ের কাজ এবং আপনাদের সমর্থনের পরেও আমার মতো কেউ যদি সংসদে যায় এবং যে স্বপ্নগুলো আমার আছে, মানুষ যদি মনে করে যে আপনি আপনার মেয়াদের মধ্যে স্বপ্নগুলো নিয়ে কিছু করতে পারেননি, তাহলে পাঁচ বছর পর জনগণ সুযোগ পাবে আরেকজনকে নিয়ে আসবার। সেই সুযোগের নামই গণতন্ত্র।’

‘আমি বিশ্বাস করি, যদি আমি নির্বাচিত হই, পাঁচ বছরের মধ্যে আমার যে চেষ্টা, সেই চেষ্টাগুলো সামনে চলে আসতে হবে। সফল হব কি না সেটা আমিও জানি না, তবে আমার চেষ্টা সামনে চলে আসতে হবে, আমার উদ্যোগগুলো সামনে চলে আসতে হবে।’

‘মানুষের ডাকে ও সময়ের দাবিতে’ নির্বাচনের মাঠে এসেছেন জানিয়ে সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘নিজের রাজনৈতিক পদ-পদবি বা কোনো জায়গায় পৌঁছার অভিলাষে আমি এখানে দাঁড়ায়নি। আমি সারাজীবনের জন্য মানুষের প্রতি কমিটেড। শুধু ১২ তারিখের জন্য নয়, আমার ভুল হলে আপনারা পথ দেখাবেন।’

চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০০৩ সালে আমার বাবা তখন মন্ত্রী ছিলেন, তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে কেবিনেট মিটিংয়ে বাণিজ্যিক রাজধানীর ১৬ দফা পেশ করেছিলেন। দেশনেত্রী চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিলেন। ১৬ দফার একটার প্রস্তাবনা আমার বাবা নিজ হাতে লিখে ম্যাডামের কাছে পেশ করেছিলেন। এটা হলো একটা উদ্যোগ, একটা প্রচেষ্টা। কিন্তু বাকি ২২ বছর আমরা চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে পারিনি। যদি সময়-সুযোগ আমরা পাই, সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপ দিতে হবে।’

এলাকার সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হালিশহরের সাধারণ মানুষ বলেছিল, পানির ও রাস্তার সমস্যা এবং কিশোর গ্যাংয়ের কথা। বলেছিল, খুবই বিপদে আছি। এটা অনেক দিনের একটা প্র্যাকটিস হয়ে গেছে আমাদের শহরে, কিশোর গ্যাং। এজন্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটাতে হবে একেবারে সমাজের সবক্ষেত্রে। এই চেষ্টা আমি করব। প্রথমদিন থেকে আমার একটি বক্তব্য ছিল আমাদের নেতাদের কাছে, আমার মিছিল বড় হতে হবে না। দয়া করে আমার মিছিলে যেন কোনো কিশোর না থাকে। তাদের রাজনীতি করার, মিছিলে অংশ নেওয়ার বয়স হয়নি, প্রয়োজনও নেই।’

নির্বাচনি এলাকা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হওয়ায় নির্বাচিত হলে মেয়রের সঙ্গে সমন্বয় করে জলাবদ্ধতা, সড়ক সংস্কারসহ নগরবাসীর সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান সাঈদ আল নোমান। একইসঙ্গে সিটি করপোরেশন, সিডিএ, ওয়াসার মতো সেবা সংস্থাগুলোর কাজে সমন্বয়ের জন্য তিনি চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।

সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, নগর কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিমসহ আরও কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।