বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন নোটের পাশাপাশি আগের নোটগুলোও সচল থাকবে।
নতুন ১০ টাকার নোটের বিস্তারিত তথ্য
| বৈশিষ্ট্য (Feature) | বিবরণ (Description) |
|---|---|
| স্বাক্ষরকারী (Signed by) | গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর |
| সম্মুখভাগের ছবি | বায়তুল মোকাররম ও শাপলা ফুল |
| পেছনের ছবি | গ্রাফিতি-২০২৪ (Graffiti-2024) |
| নিরাপত্তা সুতা | লাল থেকে সবুজ রং পরিবর্তনশীল (২ মি.মি.) |
| আকার ও রং | ১২৩ মি.মি. x ৬০ মি.মি. (গোলাপি আভা) |
| ইস্যু করার তারিখ | ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
নতুন নোটের বিশেষ বৈশিষ্ট্য (Special Features of the New Note)
১২৩ মি.মি. x ৬০ মি.মি. আকারের এই নোটটিতে গোলাপি রঙের (Pink color dominance) প্রাধান্য রয়েছে।
নোটের সম্মুখভাগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এবং পেছনের ভাগে ঐতিহাসিক ‘গ্রাফিতি-২০২৪’ (Graffiti-2024) চিত্রিত করা হয়েছে।
নতুন ১০ টাকার নোট আসল-নকল চেনার নিরাপত্তা উপায় (Security Features to Identify Genuine Note)
১. নিরাপত্তা সুতা (Security Thread): নোটের বামপাশে ২ মি.মি. চওড়া সুতা রয়েছে, যেখানে ‘৳১০ দশ টাকা’ লেখা আছে। এটি আলোর বিপরীতে ধরলে স্পষ্ট দেখা যায় এবং নাড়াচাড়া করলে লাল থেকে সবুজ রঙে (Color change from Red to Green) পরিবর্তিত হয়।
২. জলছাপ (Watermark): নোটে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ’, উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ জলছাপে ‘10’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম রয়েছে।
৩. See-Through Image: গভর্নরের স্বাক্ষরের ডানপাশে একটি বিশেষ প্যাটার্ন রয়েছে, যা আলোর বিপরীতে ধরলে ‘১০’ লেখাটি ফুটে ওঠে।
৪. মাইক্রোপ্রিন্ট (Microprint): নোটের ওপর ও নিচের অংশে অত্যন্ত ক্ষুদ্রাক্ষরে ‘BANGLADESH BANK’ লেখা রয়েছে।
৫. নমুনা নোট (Specimen Note): সংগ্রাহকদের জন্য টাকা জাদুঘর (Taka Museum) থেকে বিনিময় অযোগ্য নমুনা নোট সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে।
৬. গ্রাফিতি-২০২৪ (Graffiti-2024): নোটের পেছনভাগে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিবিজড়িত ‘গ্রাফিতি-২০২৪’-এর ছবি মুদ্রিত হয়েছে, যা এই সিরিজের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।
৭. রঙ পরিবর্তনশীল সুতা (Color-Changing Thread): নোটের বাম পাশে থাকা ২ মি.মি. চওড়া নিরাপত্তা সুতাটি নাড়াচাড়া করলে এর রং লাল থেকে সবুজ (Red to Green) হয়ে যাবে।
৮. সি-থ্রু ইমেজ (See-Through Image): গভর্নরের স্বাক্ষরের ডান পাশে একটি বিশেষ প্যাটার্ন আছে, যা আলোর বিপরীতে ধরলে স্পষ্ট ‘১০’ লেখা ফুটে ওঠে।
৯. রঙের আধিক্য (Pink Dominance): নতুন এই নোটটিতে গোলাপি (Pink) রঙের ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট ও নজরকাড়া।
পার্থক্য: প্রচলিত ১০ টাকার নোট বনাম নতুন ১০ টাকার নোট
| বৈশিষ্ট্য (Features) | প্রচলিত (পুরানো) নোট | নতুন ডিজাইনের নোট (২০২৬) |
|---|---|---|
| গভর্নরের স্বাক্ষর | সাবেক গভর্নরদের স্বাক্ষর | ড. আহসান এইচ মনসুর |
| পেছনভাগের ছবি | লালবাগ কেল্লা বা অন্যান্য দৃশ্য | গ্রাফিতি-২০২৪ (বিপ্লবের চিত্র) |
| নিরাপত্তা সুতা | সাধারণ বা ভিন্ন সুতা | ২ মি.মি. চওড়া (রঙ পরিবর্তনশীল) |
| রঙের বিন্যাস | হালকা গোলাপি ও হলুদ মিশ্রণ | গাঢ় গোলাপি রঙের আধিক্য |
| আকার (সাইজ) | ১২৩ মি.মি. × ৬০ মি.মি. | ১২৩ মি.মি. × ৬০ মি.মি. (একই) |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: নতুন নোট বাজারে এলেও আপনার কাছে থাকা আগের ১০ টাকার নোট এবং কয়েনগুলো বাতিল হবে না; সেগুলো আগের মতোই লেনদেনে ব্যবহার করা যাবে।
পুরাতন ১০ টাকার নোট কি চলবে?
বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, নতুন ডিজাইনের নোট বাজারে এলেও বর্তমানে প্রচলিত সকল কাগুজে নোট এবং ধাতব মুদ্রা (কয়েন) আগের মতোই বৈধ থাকবে এবং লেনদেনে কোনো সমস্যা হবে না। নতুন নোটটি ধীরে ধীরে বাজারে ছড়িয়ে পড়বে এবং উভয় প্রকার নোটই সমানভাবে কার্যকর থাকবে।
নোট ও মুদ্রা সংক্রান্ত বর্তমান স্থিতি
| মুদ্রার ধরন (Currency Type) | বর্তমান অবস্থা (Status) |
|---|---|
| পুরাতন ১০ টাকার নোট | সম্পূর্ণ বৈধ ও সচল |
| নতুন ১০ টাকার নোট (২০২৬) | নতুনভাবে বাজারে ইস্যু করা হয়েছে |
| ১০ টাকার ধাতব মুদ্রা (কয়েন) | বৈধ ও সচল |
১০ টাকার আসল নোট চেনার জাদুকরী ৫টি উপায়
| পরীক্ষার ধাপ | কীভাবে চেক করবেন (নির্দেশনা) |
|---|---|
| ১. নিরাপত্তা সুতা | নোটটি নাড়াচাড়া করলে বামদিকের ২ মি.মি. চওড়া সুতার রং লাল থেকে সবুজ হবে। |
| ২. জলছাপ | আলোর বিপরীতে ধরলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, ‘১০’ এবং বিবির মনোগ্রাম দেখা যাবে। |
| ৩. সি-থ্রু ইমেজ | গভর্নরের স্বাক্ষরের ডানপাশে আলোতে ধরলে স্পষ্ট ‘১০’ অঙ্কটি দৃশ্যমান হবে। |
| ৪. খসখসে লেখা | নোটের সম্মুখভাগে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ ও ‘১০’ টাকার ওপর হাত বুলালে খসখসে অনুভব হবে। |
| ৫. মাইক্রোপ্রিন্ট | আতশ কাঁচ দিয়ে দেখলে নির্দিষ্ট অংশে অত্যন্ত ক্ষুদ্রাক্ষরে ‘BANGLADESH BANK’ লেখা দেখা যাবে। |



