back to top

রাঙ্গামাটির এক উপজেলায় এনসিপির ৮৭ নেতাকর্মীর গণপদত্যাগ

প্রকাশিত: ১০ মার্চ, ২০২৬ ০৮:২৪

রাজনীতি ডেস্ক : রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়কসহ কমিটির সকল সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

সোমবার (৯ মার্চ) এক বিশেষ জরুরি সভায় ৮৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সবাই সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে রাঙামাটি জেলা কমিটির কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় অন্য একটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এনসিপির জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করা হয়েছে।

পদত্যাগকারী নেতাকর্মীরা বলছেন, তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে দলটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন।

তবে দলের বর্তমান অবস্থান তাদের আদর্শ ও স্বকীয়তার সঙ্গে মিলছে না। ফলে তারা সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন।

উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ চাকমা জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি তাদের এই ৮৭ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু বর্তমানে দলটি অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ায় তাদের আদর্শিক মিল থাকে না। তাই তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির রাঙামাটি জেলা শাখার আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির এই গণপদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেছেন।

তবে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা বলেছেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় সূত্র থেকে বিষয়টি শুনেছেন।

তিনি উল্লেখ করেছেন, পদত্যাগ করার জন্য নির্দিষ্ট সাংগঠনিক নিয়ম অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

এছাড়া তিনি মন্তব্য করেছেন, জোট গঠনের কারণে পদত্যাগ করলে তা নির্বাচনের আগেই হওয়া উচিত ছিল। নির্বাচনের পর পদত্যাগ করা হলে এতে অন্য রাজনৈতিক দলের প্রভাব থাকতে পারে।

তবে জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমা এই রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো বাহ্যিক চাপের কারণে নয়, বরং আদর্শিক ভিন্নতার কারণে তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।

তিনি আরও বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের বর্তমান গতিপথ তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই গণপদত্যাগের ফলে পার্বত্য অঞ্চলে এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামো বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে।

অনেক নেতা ও কর্মী একযোগে দলের সব পদ ছেড়ে যাওয়ায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম স্থবির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি এনসিপির রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় সমর্থনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এই পদত্যাগের ঘটনা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পার্বত্য রাঙামাটিতে নতুন ধারা সৃষ্টি করেছে। ত্রুটিপূর্ণ সমন্বয় এবং দলীয় নীতির সঙ্গে অসন্তুষ্টি থাকায় নেতাকর্মীরা নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করেছেন।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চল ও পার্বত্য অঞ্চলের শাখাগুলোর কার্যক্রম এই পদত্যাগের পর ধীরগতিতে কার্যকর হতে পারে।

স্থানীয়দের মতে, এই পদত্যাগ রাজনৈতিক দিক থেকে একটি বড় সংকেত, যা দলের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ নির্বাচন কৌশলের ওপর প্রভাব ফেলবে।

তৃণমূলের এই বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী একযোগে সরে দাঁড়ানোর ফলে দলের ভেতরে সংস্কার ও পুনঃগঠন নিয়ে নতুন ভাবনা তৈরি হবে।

উপজেলা কমিটির পদত্যাগী নেতারা জানিয়েছেন, তারা দলের মূল আদর্শ ও নীতির প্রতি সমর্থন রাখছেন, কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার সঙ্গে মিল না থাকায় তারা আর দায়িত্ব নিতে পারছেন না।

তাদের পদত্যাগ স্বেচ্ছাসেবী ও আদর্শিক কারণে করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি