back to top

এস আলমের প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ফেরত,বিতর্কের ঝড়ে বিটিআরসি

বকেয়া-অনিয়মের অভিযোগ উপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ৩১ মার্চ, ২০২৬ ১১:০৫

দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও বিপুল বকেয়ার অভিযোগে বন্ধ থাকা বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট কমিউনিকেশনস লিমিটেড (ফার্স্টকম বিডি) আবারও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এই সিদ্ধান্তে খাতজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। উঠছে নানান প্রশ্ন।

এর আগে বকেয়া ও অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ওপর অপারেশনাল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

যদিও সব বকেয়া পরিশোধ না করেই আংশিক অর্থের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমের অনুমোদন দেওয়া হয়।

❖ অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ, আবার অনুমোদন
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একই বছরের ৩ ডিসেম্বর ফার্স্টকম বিডির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয় বিটিআরসি।

নানা অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি এবং বিপুল বকেয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটির ওপর ১০০ শতাংশ অপারেশনাল ক্যাপ আরোপ করা হয়।

তখন প্রতিষ্ঠানটির কাছে আইজিডব্লিউ অপারেটরদের প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার ৫৭২ মার্কিন ডলার বকেয়া ছিল। পাশাপাশি বিটিআরসির কাছেও রাজস্ব ভাগাভাগি ও লাইসেন্স ফি বাবদ প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা পাওনা ছিল।

কিন্তু বিস্ময়করভাবে, সব বকেয়া পরিশোধ না করেই—শুধু বিটিআরসির প্রায় ৫০ শতাংশ (প্রায় দুই কোটি টাকা) পরিশোধের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর অপারেশনাল ক্যাপ তুলে নেওয়া হয়।

❖ নিজস্ব নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগ
বিটিআরসি পূর্বে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল—২০২৫ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধ না করলে নতুন টপোলজিতে অংশগ্রহণ সম্ভব নয়।

তবে সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই ফার্স্টকম বিডিকে ধাপে ধাপে সুবিধা দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেওয়া হয়।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে “নজিরবিহীন” ও “পক্ষপাতমূলক” সিদ্ধান্ত।

❖ অংশীজনদের তীব্র আপত্তি
জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বকেয়া পরিশোধ নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়। প্রথমে ২৫ শতাংশ পরিশোধ করে বাকি অর্থ ১২ কিস্তিতে দেওয়ার প্রস্তাব দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

পরে তা পরিবর্তন করে ৩ কিস্তিতে পরিশোধের প্রস্তাব দেয়—যেখানে ব্যবসা শুরু করার পর কিস্তি দেওয়ার কথা বলা হয়।

কিন্তু আইওএস অপারেটররা এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। তাদের যুক্তি—নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বকেয়া রেখে ব্যবসা চালানোর সুযোগ দেওয়া অন্যায় ও ঝুঁকিপূর্ণ।

❖ আদালতের নির্দেশনা নিয়েও প্রশ্ন
দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পর আদালত এস আলম গ্রুপের কিছু অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেয়।

এই জব্দ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেই ফার্স্টকম বিডির ৫৮ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রিত।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে—আইনগত জটিলতায় থাকা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেওয়া কতটা বৈধ?

❖ নিয়ন্ত্রকের নিরপেক্ষতা নিয়ে শঙ্কা
খাতসংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় ধরনের নিরুৎসাহ সৃষ্টি করবে।

এতে শুধু বাজারের প্রতিযোগিতা ব্যাহত হবে না, বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠবে। দীর্ঘমেয়াদে পুরো টেলিযোগাযোগ খাতের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।

❖ নীরব বিটিআরসি
বিষয়টি নিয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এছাড়াও বিটিআরসির কমিশনার (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইকবাল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোন উত্তর মেলেনি। সূত্র: আমারদেশ

এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি মহল প্রশ্ন তুলেছেন, সব বকেয়া পরিশোধ না করেও, আইনি জটিলতা থাকা সত্ত্বেও এবং খাতসংশ্লিষ্টদের আপত্তি উপেক্ষা করে একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমের অনুমতি, এটি কি শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত-নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো প্রভাবশালী স্বার্থ?