সিটিজি নিউজ টুডে : চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকায় সহকারী প্রকৌশলী বিজয় হোসেন (২৭) অপহরণের শিকার হয়ে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে অর্থনৈতিক অঞ্চলের সিপি মোড এলাকা থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বিজয় হোসেন নরসিংদী জেলার সদর থানার দড়ি নবীপুর গ্রামের মো. ইসমাইল মিয়ার ছেলে।
তিনি মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সামুদা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি প্রি-কাস্ট হাই পারফরম্যান্স কংক্রিট (পিএইচসি) পাইল উৎপাদন কারখানায় উৎপাদন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কর্মস্থল থেকে বের হওয়ার পর অর্থনৈতিক অঞ্চলের সিপি মোড়সংলগ্ন এলাকায় মুখোশধারী তিন যুবক তাঁকে জোর করে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়।
সেখানে তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে হাত-পা বেঁধে পরিবারের কাছে ছবি পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাঠালেও তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে ছাড়া হয়নি। এ সময় নরসিংদীতে পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয় এবং মিরসরাই থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে।
এ বিষয়ে অপহরণের শিকার বিজয় হোসেনের ভাই মো. জয় হোসেন বলেন, ‘আমার ভাইয়ের ফোন থেকে আমাদের কাছে এসএমএস পাঠিয়ে বলে, আমাকে অপহরণ করা হয়েছে।
তোমরা টাকা পাঠাও না হয় আমাকে মেরে ফেলবে। বিকাশের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা পাঠিয়েছি। আমরা বিষয়টি থানা পুলিশকে জানিয়েছি। অভিযোগ দেয়ার পরপরই পুলিশ আমার ভাইকে ফিরে পেয়েছি।
হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আমরা তাকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। বিজয় সুস্থ হলে পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।
পুলিশ জানায়, অভিযানের চাপের মুখে অপহরণকারীরা স্থান পরিবর্তন করতে থাকে। একপর্যায়ে শুক্রবার ভোরে অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটি প্রতিষ্ঠানের সামনে আহত অবস্থায় বিজয়কে ফেলে যায় তারা। পরে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়াকুব নবী বলেন, বিজয় হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের এই ঘটনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।
স্থানীয়দের দাবি, শিল্পাঞ্চল ঘিরে এমন অপরাধ বাড়লেও অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না।
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


