back to top

কনটেইনারের নিচে আটকে বাঁচার আত্মচিৎকার, ঘণ্টাখানেক পর উদ্ধার

সীতাকুণ্ডে হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনা

প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:১৭

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় তুলাভর্তি একটি কনটেইনারের নিচে চাপা পড়ে প্রাণভয়ে আর্তচিৎকার করছিলেন লরির সহকারী মো. ইয়াসিন (২৫)।

তাঁর কোমরের নিচের অংশ ভারী কনটেইনারের নিচে আটকে ছিল। নড়াচড়া করারও উপায় ছিল না। চারপাশে মানুষের ভিড়, চেষ্টা-চেষ্টা আর উৎকণ্ঠা। সবকিছুর মাঝেও সময় যেন থমকে গিয়েছিল তাঁর জন্য।

বুধবার (বিকেল সাড়ে তিনটা) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মডার্ন পাইলন এলাকায় ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ইয়াসিনকে লরির কেবিনের ভেতরের বাঁ পাশে কনটেইনারের নিচে আটকে থাকতে দেখা যায়। তিনি কিছুক্ষণ পরপরই সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন।

তাঁর সেই আর্তনাদ আশপাশের মানুষকে শিউরে তোলে। এ সময় লরির চালক হৃদয় খোলা অংশ দিয়ে তাঁকে বাতাস করছিলেন, যেন কিছুটা হলেও স্বস্তি পান ইয়াসিন।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের উপস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। প্রথমে একটি হালকা ক্রেন এনে কনটেইনারটি সরানোর চেষ্টা করা হলেও সেটি ব্যর্থ হয়।

প্রতিটি মিনিট তখন ইয়াসিনের জন্য যেন একেকটি দীর্ঘ যন্ত্রণা হয়ে উঠছিল। পরে ভারী ক্রেন আনা হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর কনটেইনারটি সরিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

দুর্ঘটনার সময় মহাসড়কে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। একদিকে উদ্ধার অভিযান, অন্যদিকে আটকে থাকা অসংখ্য যানবাহন। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে চরম বিশৃঙ্খল।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানিয়েছেন, একটি কাভার্ড ভ্যান দ্রুতগতিতে এসে ইউটার্ন নেওয়ার সময় ঢাকামুখী তুলাভর্তি কনটেইনারবাহী লরিটি সামনে পড়ে। হঠাৎ ব্রেক করায় কনটেইনারটি ছিটকে গিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি লরির ওপর পড়ে, যেখানে বসে ছিলেন ইয়াসিন।

এ বিষয়ে আকবরশাহ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া জানান, আহত ইয়াসিনকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর অবস্থা গুরুতর এবং বাঁ পায়ে আঘাত রয়েছে।

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন দুটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ মামলা করতে চাইলে তা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

উদ্ধার কার্যক্রম শেষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

তবে ঘটনার সেই এক ঘণ্টা। যেখানে একজন মানুষের জীবন-মৃত্যুর লড়াই চলছিল কনটেইনারের নিচে, সেটি প্রত্যক্ষ করা মানুষের মনে রেখে গেছে গভীর শঙ্কা আর বেদনার ছাপ।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি