back to top

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশই রাষ্ট্রের প্রথম দ্বার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত: ১০ মে, ২০২৬ ১৫:১৪

পুলিশের কাজ দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হতে হবে আস্থা ও নির্ভরতার—এমন মন্তব্য করেছেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো বিপদ-আপদে মানুষ যেন থানাকে তাদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল মনে করতে পারে। পুলিশের সাফল্য মানেই সরকারের সাফল্য।

রবিবার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত পুলিশের ‘কল্যাণ প্যারেড’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পুলিশের সঙ্গে জনগণের আস্থার সম্পর্ক তৈরি হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। পুলিশকে দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন—সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, “আইনি সহায়তা পেতে সাধারণ মানুষ প্রথমেই থানায় আসে। সেখানে এসে তারা যেন রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব।”

পুলিশ সদস্যদের মাঠপর্যায়ে সরকারের ‘দূত’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষতা ও তাৎক্ষণিক কৌশলী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পুলিশ যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা শুধু আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্য নন, বরং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও ন্যায়বিচারের প্রথম দ্বার।

তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “জনগণের বিশ্বাস অর্জন ও তা ধরে রাখাই এখন পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।” তিনি কমিউনিটি পুলিশিং ও ওপেন হাউস ডে’র মতো উদ্যোগ আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, অস্ত্রের শক্তির চেয়ে মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও জাতীয় ঐক্যই প্রধান শক্তি। একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই সবাইকে এগোতে হবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বাস্তবতায় সাইবার পুলিশ গঠন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিগ ডাটা বিশ্লেষণের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে, নারী ও শিশু নির্যাতন, চুরি-ডাকাতি, কিশোর গ্যাং, আর্থিক জালিয়াতি ও অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। মাদক সরবরাহ ও এর উৎস নির্মূলে কঠোর অভিযান চালানোর নির্দেশনাও দেন তিনি।

মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, গুম-অপহরণ বা বিচারবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।