back to top

রঙে ভিন্ন, নামে চমক-৭০০ কেজির ‘ট্রাম্প’ মাতাচ্ছে কোরবানির বাজার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড়, হাটে ভিড়

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬ ০৭:৪৬

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাটে যখন স্বাভাবিক ব্যস্ততা বাড়ছে, ঠিক তখনই নারায়ণগঞ্জে এক মহিষকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ভিন্নমাত্রার কৌতূহল।

গোলাপি রঙের, প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটির নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। নামের মতোই এর উপস্থিতিও চমক জাগানো।

নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’ থাকা এলবিনো জাতের এই মহিষটি এখন শুধু একটি কোরবানির পশু নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল এক আলোচিত চরিত্র।

প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন খামারে—কেউ দেখতে, কেউ ছবি তুলতে, কেউবা শুধু ‘ট্রাম্প’ নামের এই ব্যতিক্রমী মহিষটির গল্প শুনতে।

প্রথম দেখাতেই চোখ আটকে যায় এর গায়ের রঙে। সাধারণ কালো মহিষের ভিড়ে গোলাপি আভাযুক্ত শরীর যেন আলাদা করে দৃষ্টি কাড়ে। তার সঙ্গে মাথার সামনে লম্বা লালচে-সোনালি চুল—যা অনেকের কাছে মনে করিয়ে দেয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিচিত হেয়ারস্টাইল। আর এই মিল থেকেই খামার কর্তৃপক্ষ আদর করে নাম দেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।

খামার মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধা জানান, নামটি প্রথমে রাখা হয়েছিল নিছক মজা করে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেটিই হয়ে ওঠে পরিচয়ের প্রধান মাধ্যম। “মানুষ এখন খামারের নাম না জানলেও ‘ট্রাম্পের খামার’ বললেই চিনে ফেলে,” বলেন তিনি।

এই মহিষটি প্রায় ১০ মাস আগে রাজশাহীর একটি হাট থেকে সংগ্রহ করা হয়। ইতোমধ্যে ঢাকার এক ক্রেতার কাছে লাইভ ওয়েট হিসেবে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে এটি। আগামী সপ্তাহে নতুন মালিকের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

তবে দামের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে এর জনপ্রিয়তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ ভিডিও বানিয়েছেন, কেউ রিলস, কেউ টিকটকে আপলোড করেছেন। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে গোলাপি মহিষটির গল্প। ফলে বাস্তবের হাটে যেমন ভিড় বাড়ছে, তেমনি ভার্চুয়াল জগতেও চলছে সমান আগ্রহ।

খামারের কর্মচারীরা জানান, দর্শনার্থীদের অনেকেই এসে প্রথমেই জানতে চান, “ট্রাম্প কোথায়?” কেউ কেউ মহিষটির সঙ্গে সেলফি তুলতে চান। ছোট শিশুরা কাছে গিয়ে হাত বুলিয়ে দেয়। শান্ত স্বভাবের কারণে মহিষটিও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে অস্থির হয়ে ওঠে না।কোরবানি

এলবিনো জাতের প্রাণীর স্বভাব সাধারণত শান্ত হয়। এই মহিষটির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। মালিকের ভাষায়, “কেউ বিরক্ত না করলে এটি কখনো আক্রমণাত্মক আচরণ করে না। চলাফেরায় বেশ ভদ্র।”

খাদ্যাভ্যাসেও রয়েছে বিশেষত্ব। প্রতিদিন ১২ ধরনের উপাদানের মিশ্রণে তৈরি বিশেষ ঘাস, ভুট্টা ও ভুসি দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিয়মিত পুষ্টিকর খাবারও সরবরাহ করা হয়, যা এর বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, এটি কোনো বিদেশি বিরল জাত নয়; বরং দেশীয় এলবিনো প্রকৃতির মহিষ।

শরীরে রঞ্জক পদার্থের স্বল্পতার কারণেই এমন ভিন্ন রঙ দেখা যায়। এ ধরনের প্রাণী তুলনামূলক কম দেখা যায় বলেই সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় এবারের কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার। এর বিপরীতে জেলার ৬ হাজার ৫৩৫টি খামারে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি।

তবুও এই বিপুল সরবরাহের ভিড়ে আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।

কারণ, এটি শুধু একটি পশু নয়—বরং সময়ের একটি প্রতিচ্ছবি। যেখানে বাজার, বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মিলেমিশে তৈরি করছে নতুন ধরনের আকর্ষণ।

খামার মালিকের কথায়, “এখন পশুর নামকরণও এক ধরনের সংস্কৃতি। একটি ব্যতিক্রমী নাম মানুষকে টানে, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেটিকে ছড়িয়ে দেয়।”

গোলাপি ‘ট্রাম্প’ তাই কেবল কোরবানির পশুর হাটের আকর্ষণ নয়; এটি এক নতুন বাস্তবতার গল্প—যেখানে ভাইরাল হওয়াই হয়ে উঠছে জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় মাপকাঠি।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি